“জাবির ২১ হলে কম্পিউটার দিল জাকসু, ভবিষ্যতে ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা”
মোঃ শাকিল হোসাইন, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে একটি করে কম্পিউটার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিক সংগঠন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিকেও একটি করে কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় জাকসু কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট হল সংসদের প্রতিনিধিদের হাতে এসব কম্পিউটার তুলে দেওয়া হয়।
জাকসু নেতৃবৃন্দ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়। অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত, এক্সেলসহ বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপের প্রয়োজন হলেও অনেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ডিভাইস কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে তাদের অনেক সময় বন্ধু বা অন্য শিক্ষার্থীদের ডিভাইসের ওপর নির্ভর করতে হয়।
শিক্ষার্থীদের এ সমস্যা কিছুটা লাঘব এবং একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করার লক্ষ্যেই প্রতিটি আবাসিক হলে একটি করে কম্পিউটার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাকসু।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরপরই ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কিনতে পারেন না। ব্যক্তিগত একটি ডিভাইস কেনার জন্য অনেকের এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এ সময়ে অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনসহ বিভিন্ন একাডেমিক কাজে তাদের অন্যের ডিভাইসের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তিনি বলেন, হলগুলোতে দেওয়া কম্পিউটার ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, পাওয়ারপয়েন্টে প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত এবং এক্সেলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাজ করতে পারবেন।
জাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হলগুলোতে স্থাপিত এসব কম্পিউটার ব্যক্তিগত ডিভাইস না থাকা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি কম্পিউটারগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হল সংসদের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর এখনও ব্যক্তিগত ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নেই। ফলে বিভিন্ন একাডেমিক কাজের জন্য তাদের বন্ধুদের কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করতে হয়। নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, থিসিস লেখার সময় তাকেও বন্ধুর কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, হলে কম্পিউটার দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে গিয়ে নিজেদের একাডেমিক কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে অন্যের কাছে কম্পিউটার চাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও সহজে প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারবেন।
জাকসুর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে এসব কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাকসুর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের বিষয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
Leave a Reply