“বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে প্রশাসক মাহবুব ইলাহীর বক্তব্য”
“হামিদুল হক মার্সাল
রামু প্রতিনিধি”
গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে দৈনিক পাংগুসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন গণমাধ্যমে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ ও আমাকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংশ্লিষ্ট সংবাদে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন না করে সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রকৃত বিষয় জনগণের অবগতির জন্য নিম্নে তুলে ধরছি।
আমি মোঃ মাহবুব ইলাহী, প্রশাসক, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ। আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, ওয়ারিশ সনদ, খাল পুনঃখনন এবং টোল ট্যাক্স আদায় সংক্রান্ত যে অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো আবেদন জমা পড়লে তা প্রথমে গ্রাম পুলিশ দ্বারা যাচাই-বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে দফাদার, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য (মেম্বার) এবং সচিবের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ফাইল আমার নিকট উপস্থাপন করা হয়। উল্লেখ্য, আমি কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নই; এটি আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। একই সঙ্গে আমি লামা ও আলীকদম উপজেলার দায়িত্বও পালন করে আসছি।
নাগরিক সনদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। আবেদনকারীর পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) যাচাইকৃত কপি সংযুক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
পারিবারিক সনদ ও ওয়ারিশ সনদের ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশ, দফাদার ও সংশ্লিষ্ট সদস্যের প্রতিবেদন এবং ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বাক্ষরের পর ফাইল আমার নিকট আসে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আমি অনুমোদন প্রদান করি।
মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও সমাজপ্রধান, গ্রাম পুলিশ, দফাদার, সদস্য এবং ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ যাচাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়।
আমার বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অপচয় কিংবা দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কারণ আমি কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি নই এবং কোনো প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নই। ফলে এ ধরনের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
এছাড়াও একটি বিশেষ মহল দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তির জন্য অবৈধভাবে জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক সনদ প্রদানের উদ্দেশ্যে আমার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। আমি সরকারি বিধি-বিধান ও প্রচলিত আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করে এ ধরনের কোনো অনিয়ম বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্মতি প্রদান করিনি। আমার এই নীতিগত অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী ও অসাধু চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যা অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইন ও নীতির প্রতি অনড় অবস্থানের কারণেই আজ আমাকে নিয়ে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের টোল ট্যাক্স আদায়কারী নিয়োগ কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী পরিষদের সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি।
সংবাদের একাংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনৈক সৈয়দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন—টোল ইজারা বা আদায়কারীর দায়িত্ব পাওয়ার জন্য ৮০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে তিনি কখনো এ ধরনের কোনো অর্থ নিয়ে পরিষদে আসেননি; এমনকি এ বিষয়ে আলোচনার জন্যও পরিষদে উপস্থিত হননি।
সাংবাদিক ভাইদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, বিভ্রান্তিকর ও একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ পরিবেশন করুন।
Leave a Reply