“৩৬ দিনের বিপ্লব: জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণআন্দোলন”
মোঃআক্তারহোসেন,প্রতিনিধি,হাইমচর,চাঁদপুর।
🗣️বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য গণজাগরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন। ছাত্র-জনতার এই বিপ্লব প্রাথমিকভাবে শুরু হয় **সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে**, কিন্তু তা দ্রুত রূপ নেয় সর্বজনীন রাজনৈতিক প্রতিরোধে। পরে সরকার পতনে, মাত্র ৩৬ দিনে এই আন্দোলনই উন্মোচন করে একটি সরকারের পতনের পথ।
**৫ জুন:** হাইকোর্ট সিদ্ধান্তে ২০১৮ সালের কোটা রদের প্রজ্ঞাপন বাতিল ঘোষণা করে, যা থেকে আন্দোলন তীব্রতা পায়।
**১ জুলাই ২০২৪ – “আলোড়ন শুরু”**
ঢাবি, রুয়েট ও চবির শিক্ষার্থীরা **কোটা রায়** বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও ক্লাস বর্জন শুরু করে। ঢাবি ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু— “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” নামে শুরু হয় আন্দোলন, বৃহত্তর সমর্থন পায় সারাদেশে।
**৩ জুলাই – “রাস্তায় নামে”
* রাজধানীর শাহবাগ মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় অবরোধ।
* প্রথমবারের মতো **পুলিশ টিয়ার গ্যাস** ও লাঠিচার্জ করে।
**৬ জুলাই – “দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে”
* রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ—সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
**৫০+ শিক্ষার্থী আহত।**
**৭–৯ জুলাই:** ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট ও রেল ক্যাম্পাসে ‘বাংলা ব্লকেড’ অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে শহর সাময়িকভাবে অচল হয়ে উঠে। ([bangla.bdnews24.com]
**১৩ জুলাই – “সাধারণ ধর্মঘট ও অবরোধ”
* সমগ্র বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেল অবরোধ।
* সেদিনই পুলিশের গুলিতে ঢাবি শিক্ষার্থী **সালমান জুবায়ের (২১)** নিহত হন।
**১৪–১৬ জুলাই:** প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “রাজাকার” মন্তব্যে উত্তেজনা চরমে; সমাবেশে পুলিশের গুলি চালানো শুরু হয়। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ([bangla.bdnews24.com]
**১৮ জুলাই শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দেশব্যাপী পেটে পড়ে দেশের মানুষ বিক্ষোভে উত্তাল সারা দেশ।
**১৮ জুলাই–৫ আগস্ট:** নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষে সশস্ত্র সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ইন্টারনেট বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়, অনেকে নিহত, আহত ও গ্রেপ্তার হন—বিশেষজ্ঞদের মতে নিহতের পরিমাণ কয়েক হাজার, হতাহত বহু রয়েছে শিশু ও সাংবাদিকও
**জাতিসংঘ ও ইউএনICEF প্রতিবেদন (২০২৫):
*১ জুলাই–৫ আগস্ট সময়ে*প্রায় ১,৪০০ জন নিহত, এর মধ্যে শতাধিক শিশুও ছিল
*নারীদের ধর্ষণ আর নির্যাতনের হুমকি, শিশুদের বন্দির ও তথ্য ও আসে।
*২আগষ্ট থেকে সরকারকে পদত্যাগ করার আন্টিমেড্যাম দেওয়া হয় কিন্তু সরকার তা না মেনে আর ছড়াও হয়।
**৫ আগস্ট – গণভবন ঘেরাও ও পতন*
* দুপুর ৩টায় লাখো আন্দোলনকারী ধানমণ্ডি, বিজয় সরণি, তেজগাঁও দিয়ে গণভবনের দিকে মার্চ করে। এ মধ্যে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে দেশছেড়ে করে ভারতে পাড়ি দেন
হাজারো শহিদ আহত পঙ্গু ছাএজনতার সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ পতনের মধ্যামে অর্জিত হয় স্বাধীনতা, বাংলাদেশ হয় স্বৈরাচার মুক্ত দেশ,এ সময় সারাদেশের মানুষ আনন্দ মেতে উঠে দফায় দফায় চারদিক থেকে আনন্দ মিছিল নিয়ে আসে,মানুষ মিষ্টি বিতরন করে
* সেদিনই ছাএজনতার হস্তক্ষেপে গঠিত হয় **অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, ৬–৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
আমাদের সবসময় উচিত আহত নিহত সকল শহিদ ভাইদের স্মরণ করা তারা যে জন্য জীবন দিয়েছে পঙ্গু হয়েছে তাদের সে আখাংকা পূরণ করা।
Leave a Reply