মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) সকাল ১০টায় লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে লালপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতি। এতে সমিতির সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম রবি ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন ইটভাটার মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, লালপুর উপজেলার অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানে ইটভাটাগুলো দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার শ্রমিক, কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিক, কাঁচামাল সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছেন।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, কাঁচামাল সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ইটভাটা শিল্প চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে শুধু ভাটা মালিকরাই নয়, হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা বলেন, তারা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রচলিত আইন-কানুন মেনে ব্যবসা পরিচালনার পক্ষে। সরকার নির্ধারিত কর, ভ্যাট ও অন্যান্য ফি নিয়মিত পরিশোধ করা হলেও নানা জটিলতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইটভাটা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— লাইসেন্স প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করা, বৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ নিশ্চিত করা, কাঁচামাল সংগ্রহ ও পরিবহনে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ভাটাগুলোকে উৎসাহ প্রদান, ভাটা বন্ধের আগে শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাই। লালপুরের অর্থনীতি, হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বার্থে ইটভাটা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এ সময় তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
Leave a Reply