“দৌলতপুরের চরাঞ্চলের বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত, তদন্ত প্রতিবেদন জমা”
“আব্দুর রাজ্জাক,স্টাফ রিপোর্টার
সাবহেড:” সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তদন্তে মিলল নানা অসঙ্গতির তথ্য; প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রভাবিত করার অভিযোগ
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর শিক্ষা প্রশাসন তদন্ত চালিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর ফিরোজ জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত তদন্তের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হতে পারে।
গত মে মাসে দৌলতপুর উপজেলার ৫৪ নম্বর চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের এক অনুসন্ধানে একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিত না থেকেও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, শিক্ষকরা অনুপস্থিত থেকেও বেতন সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিদ্যালয়ের কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে না।
বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য নানাভাবে অনুরোধ করা হয় এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
অনুসন্ধানের সময় যাকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে দেখা যায়, সেই হোসনে আরা নামে এক তরুণী পরে জানান যে তিনি প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নিয়মিত দেরিতে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগ সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অভিভাবক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও তাদের নজরে এসেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে, তবে উপস্থাপিত কারণগুলো সন্তোষজনক নয় বলে মনে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply