1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
অবৈধভাবে রাস্তার উপর বাজার বসিয়ে যানজট সৃষ্টি বরদাস্ত করা হবে না- প্রতিমন্ত্রী পুতুল” জমি উদ্ধারসহ ৬ দফা দাবিতে কলমাকান্দায় শিক্ষার্থীদের ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও “দুর্গম পাহাড়ের ৬১ চোখে নতুন আলো ফেরালো সেনাবাহিনী ঘোড়াঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । মানিকগঞ্জে ঘিওরে অবৈধ ড্রেজার লিমনের বালুমহালের বিরুদ্ধে   ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল  কোর্ট পরিচালনা। “বন্ধু মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৩য় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং সম্পন্ন” ঘোড়াঘাটে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকদের মুখে খুশির হাসি। বালিয়াকান্দিতে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন” বদলগাছীতে ভিপি সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষ, ৫ দিন পর আহত মাসুদ রাজশাহী মেডিকেলে মৃত্যু জাবির ২১ হলে কম্পিউটার দিল জাকসু, ভবিষ্যতে ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ?

  • আপডেট : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৪৫ জন দেখেছেন

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ?

“মোঃ আকাশ হোসেন
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ(জাবি)

দক্ষিণ এশিয়ায় পানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এটি অর্থনীতি, কৃষি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোকে ঘিরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক অনেক সময় দুই দেশের রাজনৈতিক আস্থা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সূচক হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে এটিকে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এটি বাংলাদেশ–ভারত পানি সম্পর্কের নতুন বাস্তবতাও তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বদ্বীপ রাষ্ট্র হলেও দেশের অধিকাংশ বড় নদীর উৎস দেশের বাইরে। ফলে নদীর প্রবাহ, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা, বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি কৌশলগত প্রশ্ন। দেশে ৫৪ টি আন্তর্জাতিক নদী আছে কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশের বহু নদী আজ মৃতপ্রায়।দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের নদী গুলো শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য থাকে ফলে খুলনা,সাতক্ষীরা, যশোর,চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া,গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নদী আছে,কিন্তু প্রবাহ নাই।খাল আছে কিন্তু পানি নাই।পদ্মা নদী—যা গঙ্গার বাংলাদেশ অংশ—দেশের কৃষি, নদীভিত্তিক অর্থনীতি, মৎস্য সম্পদ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
পানির স্বল্পতা শুধু প্রাকৃতিক সংকট তৈরী করে না,জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সংকটও তৈরী করে।এই সংকটের অন্যতম সমাধান হতে পারে পদ্মা ব্যারেজ।তাই বলা যায় এটি শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, দক্ষিনাঞ্চল টিকিয়ে রাখার অন্যতম কৌশল।
ফারাক্কা ব্যারেজের কারনে বাংলাদেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর অসময়ে বন্যা ও নদী ভাঙনের মতো ঘটনা দেখা দেয়।গত ৫০ বছরে পদ্মায় পলি প্রবাহ কমেছে প্রায় ২০%।বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী ও ভূগর্ভস্থ পানিতে প্রভাব পড়ছে এবং আর্সেনিক সহ পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে।রাজশাহীতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেছে ১২৫ ফুট নিচে।দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা কপোতাক্ষ হুমকিতে পড়েছে।সুন্দরবনের নদী গুলো দিয়ে মিঠা পানির প্রবাহ কমে গেছে এবং লবণাক্ততা বেড়ে গেছে।নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হলে তার প্রভাব দুই দেশের ওপরই পরে।ভারতের প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য ফারাক্কা ব্যারেজের সম্ভব্য বিরূপ প্রভাব নিয়ে শুরু থেকেই সতর্ক করেছিলেন এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।ভারতের নীতিশ কুমার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এবং এটি ভেঙে ফেলার কথাও বলেছিলেন।
ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে সৃষ্ট পানিসংকট নিরসন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজটি নির্মিত হবে।প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হবে, যা ধান ও মাছের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।এতে ৭৮টি স্পিলওয়ে (অতিরিক্ত পানি বের করার পথ), ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং দুটি ফিশ পাস রাখা হবে। এই কাঠামোর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।২০৩৩ সালের মধ্যে ব্যারাজ ঘিরে তিনটি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র (Hydroelectric Power Plants) এবং সাতটি স্যাটেলাইট শহর (Satellite Cities) গড়ে তোলা হবে।দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সুফল পাবেন।ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোতে পানি প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে,নদী তীরবর্তী এলাকায় লবণাক্ততা (Salinity) বৃদ্ধি পাচ্ছে,নৌ চলাচল ও জীববৈচিত্র্য বাধার মুখে পড়ছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদ্মায় ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে পদ্মা ব্যারেজকে কেবল উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। এর একটি স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মাত্রা রয়েছে।বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বহুমাত্রিক—বাণিজ্য, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার পাশাপাশি পানিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।কিন্তু ফারাক্কা ব্যারেজের কারনে বাংলাদেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের দিকে এগোচ্ছে। ১৯৭৬ সালে ১৬ মে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ রাজশাহীর অভিমুখে লং মার্চে অংশ নিয়েছিলো।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি এখনও ফারাক্কা বিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি চুক্তি সাক্ষরিত হলেও বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা পায়নি।
বাংলাদেশের সামনে বাস্তবসম্মত বিকল্পের সংখ্যা খুব বেশি নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, তীব্র গরমের মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ কমে আসা এবং কৃষি ও সুপেয় পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পরিস্থিতিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে। এ কারণে সরকার বড় আকারের জলাধারকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে পদ্মা ব্যারেজকে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের বহু মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙনের প্রভাবের সঙ্গে বসবাস করছেন। পদ্মার প্রবাহপথ পরিবর্তনের ফলে অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়েছে। তাই পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় উদ্যোগ নিয়ে একদিকে যেমন উন্নয়ন ও সম্ভাবনার আলোচনা হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশের মধ্যে নতুন করে ভাঙন ও ক্ষতির উদ্বেগও দেখা দিচ্ছে।
ভারতের কূটনৈতিক অঙ্গনেও এই প্রকল্প নিয়ে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। কারণ পদ্মা বা গঙ্গা নদী দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি বিষয়। তিস্তা চুক্তি দীর্ঘ সময় ধরে অনিষ্পন্ন থাকার পর যদি পদ্মাকে কেন্দ্র করেও নতুন মতপার্থক্য তৈরি হয়, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে ঘিরে ভারতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভারতীয় পক্ষের একটি অংশ এটিকে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র বা একতরফা উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। দেশটির অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, পদ্মা নদী প্রচুর পলি বহন করে এবং সেখানে ব্যারাজ নির্মাণ করলে উজান এলাকায় পলি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততাও ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে যদি চীনা অর্থায়ন বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যুক্ত হয়, তাহলে ভারত বিষয়টিকে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের মধ্যে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা বা উত্তেজনার ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নানা কারণে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়, অভিবাসন, আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব—এসব উপাদান দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় নিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পদ্মা ব্যারেজের মতো বৃহৎ প্রকল্প আর শুধু পরিবেশ বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বাংলাদেশের একটি অংশ মনে করে, ভবিষ্যতে ভারত যদি আরও ইতিবাচক সহযোগিতামূলক অবস্থান গ্রহণ করে এবং অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগ বাড়ায়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে ভারতের কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবেগনির্ভর অবস্থানের পরিবর্তে গবেষণা, তথ্য ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণভিত্তিক আলোচনা অধিক কার্যকর হতে পারে।
ভবিষ্যতের দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির মাপকাঠি হয়তো আর শুধু অর্থনীতি বা সামরিক সক্ষমতা হবে না; বরং কে কত টেকসইভাবে তার পানি সম্পদ পরিচালনা করতে পারে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর সেই আলোচনায় পদ্মা ব্যারেজ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
সুতরাং বলা যায়,পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প কেবল একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ নয়; এটি বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তবে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা কখনো একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়—এখানে পারস্পরিক আস্থা, তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এই প্রকল্প বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের জন্য যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে, তেমনি ভুল বোঝাবুঝি ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে। তাই প্রয়োজন প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতা, সন্দেহের পরিবর্তে সংলাপ এবং একতরফা অবস্থানের পরিবর্তে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিভঙ্গি। শেষ পর্যন্ত পদ্মা ব্যারাজ নতুন অধ্যায় হবে নাকি নতুন চ্যালেঞ্জ—তা নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আস্থার পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির