“লাগাতার তীব্র লোডশেডিংয়ের ক্ষোভে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ভাঙচুর।”
“(পলাশ পাল, জেলা প্রতিনিধি)”
আজ ২৮ শে জুন রবিবার সকাল আনুমানিক ৯টায় নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দীর্ঘদিন যাবত, টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লো- ভোল্টেজ বিরম্বনা এবং তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একাংশ কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন যাবত থেকে সমস্ত উপজেলা জুড়ে ক্রমাগত বিদ্যুতের সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে চলছে । সুদীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলতে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন সাধারণ গ্রাহকরা। এ ব্যাপার সমাধানে বিভিন্ন সময় উক্ত জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেও কোন রকম সমাধান না আসায় একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন গ্রাহক জোনাল অফিসে গিয়ে ভাঙচুর চালান। উল্লেখ্য যে উক্ত উপজেলায় ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৬ জনের বিপরীতে
পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৯৪ হাজার এবং বর্তমানে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট।নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে কেন্দুয়ায় মোট ১২টি ফিডার সচল রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দুয়া এলাকায় ৮টি এবং রামপুর এলাকায় ৪টি ফিডার রয়েছে। যদিও অফিসিয়াল কাগজে-কলমে ফিডারের সংখ্যা ১৩টি, তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ নম্বর ফিডারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে।কেন্দুয়ায় যে ৮ টি ফিডার রয়েছে তারমধ্যে বর্তমানে ৬ টি ফিডারই বন্ধ রয়েছে, তাই
ময়মনসিংহ গ্রিডের মাধ্যমে নেত্রকোণায় হয়ে কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল। রোববার সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান এর ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তাদের দাবি, এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে একপর্যায়ে জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে উক্ত জোনাল অফিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক বলেন, আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বরাদ্দ অনুযায়ীই গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কেন্দুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
Leave a Reply