“ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার গর্ব, দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী কুস্তি কোচ শিরিন সুলতানা”
–মো: মোফাসেরুল হক তন্ময় (বিশেষ প্রতিনিধি)
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস রচনা করলেন শিরিন সুলতানা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পাহাড় অনন্তপুর গ্রামের এই সাহসী নারী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কুস্তিতে নারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। একসময় যিনি নিজেই ছিলেন দেশের জন্য গর্বের ক্রীড়াবিদ, আজ তিনি নারীদের অনুপ্রেরণার প্রতীক।
১৯৮৮ সালে ফুলবাড়িয়ার পাহাড় অনন্তপুর গ্রামে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন শিরিন সুলতানা। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি মেজ। ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের মধ্যে বড় হওয়া শিরিনের জীবনের প্রেরণার উৎস ছিলেন তাঁর মা। বাবার মৃত্যু তাদের পরিবারে বড় শূন্যতা তৈরি করলেও, মায়ের সাহস ও অনুপ্রেরণাই শিরিনকে এগিয়ে যেতে শিখিয়েছে।
২০০৮ সালে বাংলাদেশ আনসারে ব্যাটালিয়ন সৈনিক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ঠিক এক বছর পর, ২০০৯ সালে আনসার বাহিনীর ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ কার্যক্রমে তার ক্রীড়া প্রতিভা নজরে আসে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় রেহানা পারভীনের। সেখান থেকেই শিরিনের ক্রীড়াঙ্গনে পথচলা শুরু।
খেলোয়াড় হিসেবে শিরিন সুলতানা ২০০৯ সালেই কুস্তিতে পা রাখেন। এরপর ঘরোয়া প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার।
২০১২ সালে ভারতের ইন্দো-বাংলা রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৫৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।২০১৬ সালে ভারতের গৌহাটি-শিলংয়ে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় গেমসে ৬৮ কেজি বিভাগে রৌপ্যপদক জেতেন।২০১৭ সালে আজারবাইজানের বাকুতে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে দেশকে এনে দেন ব্রোঞ্জপদক২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে তিনি চতুর্থ স্থান অর্জন করেন।
এছাড়াও তিনি এশিয়ান ইনডোর এবং মার্শাল আর্ট গেমসে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
২০১৯ সালে কুস্তির ম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন শিরিন সুলতানা। তবে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেননি তিনি। বরং সংগঠক এবং এখন নারী কোচ হিসেবে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন।
শিরিন সুলতানার এই অর্জন শুধু একজন নারীর নয়, বরং তা পুরো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য গর্বের। তিনি প্রমাণ করেছেন ইচ্ছা, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে মেয়েরাও সব কিছু পারে। তার এই সাফল্য আজ দেশের অসংখ্য নারীকে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে।
শিরিন সুলতানা এখন শুধু কুস্তির কোচ নন, বরং হাজারো নারীর অনুপ্রেরণা একজন নিঃস্বার্থ যোদ্ধা, যিনি নিজেকে গড়েছেন সংগ্রাম আর সাহসে।
Leave a Reply