মানিকগঞ্জে শিবালয়ে বন বিভাগের গাছ চুরি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
মাহাবুব আলম তুষার
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নে সরকারি ছুটির দিনে বন বিভাগের রোপণ করা গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বিএনপির যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কোনো অনুমোদন না নিয়েই মেহগনি, শিশু, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০/১২টির অধিক গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাটা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে গাছগুলো কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে এসব গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহাদেবপুর থেকে শিমুলিয়া বাজার এবং শিমুলিয়া মোড় থেকে তাড়াইল বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ঢালু এলাকায় ২০১৭-২০১৮ সালের দিকে বন বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এর আগেও ওই সড়কের পাশে বন বিভাগের কিছু পুরোনো গাছ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন শিমুলিয়া গ্রামের নিজাম এবং সদস্যদের মধ্যে মোঃ জিন্নত আলী মাস্টারের নামও ছিল বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, জিন্নত আলী মাস্টারের ছেলে আরিফুল ইসলাম তাঁর বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ের গাছগুলো নিজের বলে দাবি করে কেটে বিক্রি করেছেন।
তবে আরিফুল ইসলামের দাবি, গাছগুলো বন বিভাগের নয় তাঁর বাবা ও তিনি নিজেরাই এসব গাছ লাগিয়েছেন।
তিনি গাছ কাটার জন্য বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন এমন কোনো নথি স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সড়কের পাশে বন বিভাগের রোপণ করা গাছ ব্যক্তিগত মালিকানা দাবি করে অনুমোদন ছাড়া কেটে বিক্রি করা আইনসঙ্গত নয়।
এ ঘটনায় গাছগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও রোপণের ইতিহাস তদন্ত করে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগেও বন বিভাগের গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেছিল।
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সরকারি, সামাজিক বন ও গণপরিসরের গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনের বিধান রয়েছে।
বিষয়টি শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকারকে জানানো হলে তিনি ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
মানিকগঞ্জ বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ বলেন, বন বিভাগের রোপণ করা গাছ অনুমোদন ছাড়া কাটা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলা ও অর্থদণ্ডসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।
সাবেক মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বুলবুল আহমেদ বলেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে দল তা প্রশ্রয় দেবে না।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, আরিফুল ইসলাম অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে সরকারি ছুটির দিনে গাছ কাটার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাটা গাছের সংখ্যা, প্রজাতি, মালিকানা ও বিক্রির বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে বন বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply