“জবিতে সমাবর্তন ফি ২,০০০ টাকা বৃদ্ধি; বিপাকে বেকার স্নাতকরা”
জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধনের ফি হঠাৎ বিপুল পরিমাণে বাড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আশঙ্কা, এই বাড়তি খরচের কারণে অনেক বেকার স্নাতক সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন না।
২০১৯ সালে প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের পর আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এবার প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই সমাবর্তন ফি ২,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হয়েছে যা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।
ফি-এর নতুন কাঠামো অনুযায়ী, স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৩,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ সম্পন্নকারীদের ফি ৪,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬,০০০ টাকা। এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের জন্য ফি ৪,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬,৫০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ারিং ও এক্সিকিউটিভ প্রোগামের অংশগ্রহণকারীদের ফি ৬,০০০ টাকার পরিবর্তে করা হয়েছে ৮,০০০ টাকা।
এছাড়া মূল সনদের মূল্য ও সার্ভিস চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে। সনদ তুলতে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা যুক্ত হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে সার্ভিস চার্জ ছাড়াই স্নাতক ও বিবিএ স্নাতকদের খরচ পড়বে ৫,৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর ও এমবিএ স্নাতকদের দিতে হবে ৬,৫০০ টাকা।
ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেমন ফি এত বাড়ানোর প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনি নিয়মিত (রেগুলার) ও সান্ধ্যকালীন প্রোগামের স্নাতকদের একই সঙ্গে সমাবর্তন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের (২০১৮-১৯ সেশন) শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম আসাদ এক ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি চায় না শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে আসুক? কিসের ভিত্তিতে এই ফি ৫,৫০০ থেকে ৬,৫০০ টাকা ধরা হলো?”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা এই আয়োজনকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাস্তবতার পরিপন্থী একটি “অভিজাত সমাবর্তন” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তৌহিদুল ইসলাম সিয়াম নামের আরেক স্নাতক বলেন, এই বাড়তি ফি চাকরিপ্রার্থীদের ওপর অনেক বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম ফি-এর সঙ্গে এর তুলনা করে অসন্তোষ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীদের সমালোচনার জবাবে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বলেন, প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এখন ইভেন্ট আয়োজনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, “অনেকে বলছেন ফি অনেক বেশি ধরা হয়েছে। কিন্তু সমাবর্তন সফলভাবে আয়োজন করতে গেলে আমাদের সব ধরণের খরচের হিসাব করতে হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গত সমাবর্তনের তুলনায় বর্তমানে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। আগের সমাবর্তনে যে গাউন ও পোশাক কেনা হয়েছিল, সেগুলোর দাম এখন আগের চেয়ে বেশি।”
উপাচার্য স্বীকার করেন যে স্নাতকদের ওপর একটি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফি কিছুটা কম হলে ভালো হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক খরচের বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের কাছে খুব বেশি বিকল্প ছিল না।
তবে তিনি নিশ্চিত করেন, সমাবর্তনে ব্যবহৃত গাউন এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে দিয়ে দেওয়া হবে।
সান্ধ্যকালীন প্রোগামের স্নাতকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের প্রথম সমাবর্তনেও তারা অংশ নিয়েছিলেন, তাই আগের নিয়ম থেকে পিছিয়ে আসার সুযোগ ছিল না।
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, “কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সদস্য, সব বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সকল ডিনের উপস্থিতিতে সমাবর্তন নির্বাহী কমিটি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
Leave a Reply