1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
সারাদেশে দ্বিতীয়! জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬ অর্জন করলেন লালপুরের রায়হান” নেত্রকোনায় পাঁচ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস ৩০ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ নয়, জেলার সামগ্রিক পাসের হারও ৫০ শতাংশের নিচে।  ঘোড়াঘাটে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে র‌্যালি চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় “দক্ষ যুবসমাজ গড়ার প্রত্যয়ে খাগড়াছড়িতে জাবারাংয়ের উদ্যোগে জাতীয় যুব দিবস পালন খাগড়াছড়িতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত” খাগড়াছড়িতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন” খাগড়াছড়ির আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি অংগ্য মারমা” “মনোহরদীতে খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলনে ইমাম-উলামা-ত্বলাবা পরিষদের ফ্রি শরবত বিতরণ” এইচএসসি ফলাফল: ব্যর্থ কারা—শিক্ষার্থী, নাকি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা? নতুন নেতৃত্বে বৌদ্ধ যুব সংঘ, ১৫ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

“কয়রার আমতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানে চলছে অনিয়ম, পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা”

  • আপডেট : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৯ জন দেখেছেন

“কয়রার আমতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানে চলছে অনিয়ম, পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা”

মোক্তার হোসেন খুলনা জেলা প্রতিনিধি

খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ভেঙে পড়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষিকারা পাঠদানের প্রতি আগ্রহী নন। তারা শ্রেণিকক্ষে বই–খাতার পরিবর্তে সময় কাটান ফেসবুক আর টিকটকে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে, আর অভিভাবকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ৯টায় পাঠদান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ দিনই ক্লাস শুরু হয় বেলা ১১টার পর। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বাইনও আসেন দুপুর ১২টার দিকে। ফলে সকাল থেকে নিরাশ হয়ে বসে থাকতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষিকা মাহমুদা সুলতানা ও ইন্দানী রাণী ক্লাসে পাঠদানের বদলে ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বোর্ডের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে, অথচ শিক্ষিকারা মগ্ন থাকেন মোবাইল স্ক্রিনে। অভিযোগ আছে, খুলনা শহরে বসবাসকারী মাহমুদা সুলতানা বৃহস্পতিবার সকালে হাজিরা খাতায় সই করেই বেরিয়ে যান। রবিবারও তিনি প্রায়ই দেরিতে বিদ্যালয়ে আসেন।
অভিভাবকদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে বিদ্যালয়ের আরেকটি চিত্র। বিদ্যালয়ের একটি ভবনে ছাগল ও গরু পালন করছেন শিক্ষিকা হোসনেয়ারা ও মাসকুরা খাতুন। প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বাইন এই বিষয়ে আপত্তি জানালে তাকে অপমান করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক অনাদি রঞ্জন সরকার নিয়মিত পাঠদান করার বদলে বাজারে ব্যবসার খোঁজখবর নিতে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে একাধিকবার বাইরে চলে যান।
এসব অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মৃন্ময় মন্ডলের বিরুদ্ধেও। স্থানীয়দের দাবি, তিনি শিক্ষকদের অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ফলে বারবার অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পাননি অভিভাবকরা। সম্প্রতি এ নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ঝগড়ার ঘটনাও ঘটে।
এমন পরিস্থিতিতে হতাশ অভিভাবকেরা বলছেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা শিখতে স্কুলে আসে। কিন্তু শিক্ষিকারা ক্লাসে বসে ফেসবুক চালান। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের শামিল।
আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বাইন বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে গরু–ছাগল পালনের বিষয়ে আমি আপত্তি জানিয়েছি। আমি শিগগিরই এগুলো বের করে দেব। ক্লাসে ফেসবুক ব্যবহারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছি। আমাকে পাঁচ দিন সময় দিন, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি নিয়মিত সময়েই আসি। তবে প্রশাসনিক কিছু কাজের কারণে কখনো কখনো দেরি হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। কোনো শিক্ষক অনিয়মে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে গবাদি পশু পালন ও শিক্ষিকাদের টিকটক, ফেসবুক আসক্তি বিষয়ে খোঁজ নিবেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মোক্তার হোসেন।
খুলনা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির