“পথশিশুদের ভবিষ্যৎ কী”
শাহিন,জবি প্রতিনিধি
বলা হয়ে থাকে, “ আজকে শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ” শিশুদের একটি বিরাট অংশকে পিছনে ফেলে রেখেছি শিক্ষা, চিকিৎসা অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান থেকে। প্রতিদিন পথ চলতে গেলে আমাদের চোখে পড়ে রাস্তার ধারে উলঙ্গ অর্ধ-উলঙ্গ কিছু শিশু যাদেরকে আমরা পথশিশু নামেই জানি। তাদের ভবিষ্যৎ কী? একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রেখে একটি রাষ্ট্রের সুষম উন্নয়ন কি আদৌ সম্ভব? একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় এই সমস্ত শিশুরা অনেকেই মাদকাসক্ত, বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে,মূলধারার সমাজ থেকে পিছিয়ে থাকার কারণে। ধারণা করা হয় যে বাংলাদেশে ৬,০০,০০০-এর বেশি পথশিশু বসবাস করছে এবং এদের ৭৫% ই রাজধানী ঢাকায় বসবাস করে। মানব উন্নয়ন সূচকে ১৩৮তম স্থানে থাকা একটি দেশ, যেখানে জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সেখানে এই শিশুরা সামাজিক স্তরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে। দেশের জনসংখ্যা এখন বেড়েছে, আর রাস্তার শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৪০,০০,০০০ জনে।
বাংলাদেশে রাস্তার শিশুদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, যারা ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের উদ্দেশ্যে কাজ করে, অথচ যারা অন্য কাজ করেন তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাও জিনিসপত্র বিক্রি করে কাজ করতে পারে, অথবা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় তাদের জীবন যাপন।
তারা প্রায়ই অপুষ্টি, শারীরিক নির্যাতন, অপব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার শিকার হয়। অনেক পথশিশু জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষাবৃত্তিসহ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত থাকে। তারা সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে বাস করে এবং তাদের নেই কোনো পরিবার বা সামাজিক পরিচিতি।
বাংলাদেশে পথশিশুদের স্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই তাদের সঠিক শিক্ষা লাভের সুযোগ নেই। অথচ, এই শিশুদের জন্য শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের যদি সঠিক শিক্ষা না থাকে, তাহলে তাদেরকে বাকি জীবনটাও দুর্বিষহভাবে কাটাতে হবে। এদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে না পারলে আদিম প্রবৃত্তি ও হিংস্রতা বৃদ্ধি পাবে, ভালো-মন্দ বিচার করবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে, সমাজে অন্যায় অপকর্ম বৃদ্ধি পাবে।
Leave a Reply