“মনোহরদীতে অর্থনৈতিক শুমারিতে অনিয়মের অভিযোগ”
আমিনুল ইসলাম জনি,মনোহরদী,নরসিংদী।
নরসিংদীর মনোহরদীতে অর্থনৈতিক শুমারীতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সারা বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার ন্যায় নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায় শুরু হয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর কার্যক্রম। ০৫- ০৮ তারিখ মোট ৪ দিন সুপারভাইজার ও গণনাকারীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে ১০ ডিসেম্বর হতে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কাজ চলমান থাকবে। মনোহরদী উপজেলাকে মোট চারটি জোনে বিভক্ত করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,
জোনাল অফিসার মনোহরদী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে কর্মরত জনাব আফরিনা আক্তার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার কথা কিন্তু মনোহরদী পৌরসভা ও চালাকচর ইউনিয়ন এর দায়িত্বে আছেন। অফিস আদেশ এ জোনাল অফিসার হিসাবে তার নাম থাকলেও তিনি একদিনও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন নি এবং তিনি ১-৩ ডিসেম্বর জোনাল অফিসারদের প্রশিক্ষণে ৩ দিনই অনুপস্থিত ছিলেন।
আরও জানা যায় জোনাল অফিসার মোঃ গোলাপ মিয়া দুই জায়গায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে জনবল কম থাকলে সংশিষ্ট উপজেলার অন্য অফিস থেকে জোনাল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয় কিন্তু জনাব মো জুয়েল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কর্মরত আনসার ভিডিপির একজন প্রশিক্ষক। মনোহরদী উপজেলায় যথেষ্ট পরিমাণ যোগ্য কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য জেলা ও উপজেলা হতে নিয়োগ দেয়া হয়।
৪টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় যে, জোনাল অফিসার জনাব সাইদুর রহমান এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়া বাকী ৩ টি তে কম বেশি অনিয়ম হয়েছে ।
সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পাওয়া গেছে একদোরিয়া ইউনিয়ন, দৌলতপুর ইউনিয়ন, গোতাশিয়া ইউনিয়ন, শুকুন্দি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জোনে ১ম দিনই ৭৪ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪০ জন, ২য় দিন ৪২ জন ৩য় দিন ৪৮ জন ৪র্থ দিন ৫০ জন।
চালাকচর ইউনিয়ন ও মনোহরদী পৌরসভা নিয়ে গঠিত জোনে অনুপস্থিত ছিলো ২ জন।
জোনাল অফিসার জনাব জুয়েল মিয়ার অধীনে কৃষ্ণপুর,বড়চাপা,কাচিকাটা ৩টি ইউনিয়ন।এখানেও ২ জন অনুপস্থিত ছিলো।
জনাব মো: সাইদুর রহমান এর অধীনে লেবুতলা,খিদিরপুর, চরমান্দালিয়া,চন্দনবাড়ী এ চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জোনে শতভাগ উপস্থিতি ছিলো।
এরকম অনিয়ম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভাবমূতি নষ্ট করছে।জানা যায়,গোলাপ মিয়া তার নিজ উপজেলা শিবপুর থেকে মনোহরদী উপজেলায় শুমারীকর্মী নিয়োগ করেছেন এবং একজন গননাকারী দিয়ে একাধিক কাজ করাচ্ছেন।
প্রকল্প দপ্তর থেকে জানা যায়, জনাব গোলাপ মিয়া উপজেলার শুমারীর দায়িত্ব পালন ও জোনের দায়িত্ব পালন করে। এ সকল অনিয়মের সাথে তিনি সরাসরি জড়িত। এ ধরনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিজের মত পরিচালিত করছেন।কতজন কাজ করবে? সুপারভাইজার কতজন? গণানাকারী কতজন? তাও তিনি প্রকাশ করে বলেননি।সবকিছু গোপন করে আপ্যায়ন ভাতা ও প্রশিক্ষন ভাতাসহ সরকারী টাকা আত্মসাৎ করছেন।শুমারীকর্মীর প্রশিক্ষণও ভালভাবে দেওয়া হয় নি, খাবারেও অনিয়ম হয়েছে ।
এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে মনোহরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি,যায় যায় দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি তাজুল ইসলাম বাদলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করতে গিয়ে প্রশিক্ষণ সেন্টার সঠিক উপস্থিতি না পেয়ে উপজেলার শুমারী সমন্বয়কারী ও জোনাল অফিসার মোঃ গোলাপ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে তর্কে জড়ান এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকী-ধমকী প্রদান করেন।
১০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর -২০২৪ এর মাঠ পযার্য়ে নিয়োজিত শুমারীকমীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মো: গোলাপ মিয়া একসাথে ২ জন জোনাল অফিসার এর দায়িত্ব একাই পালন করছেন। একই সাথে দুই জোনে পশিক্ষণ প্রদান ,দুই জোনের শুমারীকমী নিয়োগ, দুই জোনের ট্যাবলেট সহ সকল মালামাল বিতরন ও মাঠে নিয়োজিত দুই জোনের চলমান শুমারীর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীর তদারকি তিনি একাই করছেন।
আফরিনা আক্তার প্রশিক্ষণ নেন নি, প্রশিক্ষণ দেন নি, মাঠের কাজও সরেজমিনে তদারকি করছেন না। জোনাল অফিসার আফরিনা আক্তার এর নাম ব্যবহার করে গোলাপ মিয়া আফরিনা আক্তারের সকল সরকারি আর্থিক সুবিধা নিজেই নেওয়ার পায়তারা করছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় আগে ও তিনি পরিসংখ্যানের জনশুমারীসহ অন্যান্য কাজে অনিয়ম করেছেন।
Leave a Reply