“অসহায় প্রবাসীরা দালাল সিরাজের খপ্পরে পড়ে দিশেহারা”
বাবুল মিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি, গাজীপুর।
একটু সুখের আশায় সহায় সম্বল বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে এসেও দালালের খপ্পরে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এতে দুই থেকে চার মাসের ও বেশি সময় বেকার থাকছেন অনেকে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।
এমনই এক চাঞ্চলকর তথ্য পাওয়া যায় সিরাজ নামে এক দালালের বিরুদ্ধে। জানাযায়, সিরাজ ভাট্টি, পিতা মকবুল ভাট্টি, জন্মস্থান গ্রাম: বাগদা, ইউনিয়ন বাগদা, থানা আগৈলঝাড়া, জেলা বরিশাল। বর্তমানে গাজীপুর জেলার অধিবাসী, সে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ সৌদি আরবে এই ব্যবসার সাথে জড়িত এবং দীর্ঘদিন যাবৎ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসতেছে। এখন সে গাজীপুরে বহুতল ভবন এবং বাড়ি গাড়ির মালিক ও বটে। সে প্রতারণা করে বর্তমানে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন যা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার মত।
লক্ষীপুর জেলার রায়পুর থানার সৌদি প্রবাসী ইসমাইল হোসেন পিতা মৃত আব্দুর রশিদ বেপারী, তিনি বলেন, এই দালাল সিরাজ আমি সহ আরো অনেকের টাকা মেরে খেয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার অধিবাসী প্রবাসী জুয়েল বলেন, সে একটা চিটার সে আমাদের বেতনের টাকা মেরে খায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদিবাসী প্রবাসী জাবেদ ভূঁইয়া বলেন, অসহায় প্রবাসীর টাকা মেরে এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার সালাউদ্দিন বলেন যে, সে আমার বেতনের টাকা মেরে দিয়েছে। কুমিল্লার মনির হোসেন বলেন যে, কোম্পানির মেইন সাপ্লায়ার থেকে মাসিক জনপ্রতি প্রায় ৩৫০০ রিয়াল, কিন্তু তাদেরকে দেওয়া হয় মাসিক ১২০০/১৫০০ রিয়াল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানির লোক বিষয়টি এড়িয়ে যায়।
এ বিষয়ে সিরাজের সাথে বারবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেনি।
জনশক্তি রপ্তানির সব নিয়ম-নীতি মেনে দালালরা কৌশলে হাজার হাজার ফ্রি ভিসা কে কন্টাক ভিসা বলে চালিয়ে দিলেও সৌদি আরবে এসে কাজ পাচ্ছে না অনেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার ও অসহায় শ্রমিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন দেশের দালালের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশিরাও। চক্রটির একটি অংশ বাংলাদেশে ভিসা বিক্রি করে, আরেকটি সৌদি আরব থেকে ভিসা সংগ্রহ এবং অন্যটি বেকার অসহায় শ্রমিকদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করে। প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে অনেক শ্রমিক দেশে ফিরলেও টনক নড়ছে না কর্মকর্তাদের।
আরো একজন ভুক্তভোগী বলেন, সৌদি আরব এসেছি আর্মেনিয়া ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে। এখানে আসতে চার লাখ টাকার উপরে খরচ হয়েছে। এখানে এসে গত দুই মাস বেকার বসে আছি।
জনশক্তি রপ্তানিতে খরচ ও দালালের দৌরাত্ম কমানো এবং প্রতিশ্রত কোম্পানিতে কাজ ও ন্যায্য বেতন নিশ্চিন্তে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।
Leave a Reply