“সময়ের পরিক্রমায় অনেক নাম আড়ালে চলে যায়, অনেক অবদান বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যায়” —
নবাব আলী হাসিব খান
শিক্ষা বিস্তার, জনকল্যাণ এবং এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই পরিবারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বলে মন্তব্য করেছেন বৃহত্তর সামাজিক সংগঠন ‘লংলা ইউনাইটেড’-এর সভাপতি, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নবাব আলী আব্বাস খানের পুত্র নবাব আলী হাসিব খান।
এক বিশেষ বিবৃতিতে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও লংলা ইউনাইটেডের সভাপতি নবাব আলী হাসিব খান বলেন, “আমাদের পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষা বিস্তার, জনকল্যাণ এবং এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করার দীর্ঘ ঐতিহ্য। আমাদের পরিবারের অনেকেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় জমিদানসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের আলী আমজদ গার্লস কলেজ, পৃথিমপাশার আলী আমজদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রবিরবাজারের দাখিল মাদ্রাসা, কর্মধা স্কুল এবং হায়দরগঞ্জ স্কুল উল্লেখযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠান আমাদের পরিবারের শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
কুলাউড়ার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ১৩৩ বছরের আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য হিসেবে আজও যুক্ত রয়েছেন আমার বাবা সাবেক এমপি নবাব আলী আব্বাস খান ও চাচা নবাব আলী নকি খান। আমার বাবার সময়ই আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মূল কলেজ ভবন নির্মিত হয়। তাঁর সংসদ সদস্য থাকাকালীন দক্ষিণ লংলায় এসএসসি পরীক্ষার হল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও অবদান আমাদের পরিবারের ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায়। শিক্ষা বিস্তারে অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার এসব উদ্যোগ আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান, পরবর্তীকালে সুলতান চাচার সময়ে কলেজের আরেকটি ভবন নির্মিত হয়। তৎকালীন কলেজের অধ্যক্ষ কাদির সাহেব এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নকি সাহেবের উদ্যোগে ভবনটি তাঁর বাবাকে দিয়ে উদ্বোধন করানো হয়েছিল। তিনি আলী আমজদ স্কুল অ্যান্ড কলেজকে এগিয়ে নিতে হারুন স্যার, রাজা সাহেব, নবাব আলী ইয়াওর খান, নকি খান ও মুক্তাদির স্যারসহ এলাকার অসংখ্য মানুষের অবদানকে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধের প্রসঙ্গে তুলে ধরে লংলা ইউনাইটেডের সভাপতি নবাব আলী হাসিব খান বলেন, “রাজনীতির পালাবদলে সময় বদলায়, সরকার পরিবর্তন হয়, রাজনৈতিক সমীকরণও পাল্টে যায়। কিন্তু মানুষের প্রতি সম্মান, সৌজন্যবোধ ও আন্তরিকতার মূল্য কখনো কমে না। এ প্রসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহিন চাচা, সুলতান চাচা, মতিন চাচা ও নাদেল চাচার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করতে চাই। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমনই থাকুক, তাঁরা কখনো রাজনৈতিক বিবেচনায় আমাদের পরিবারের কাউকে হেয় করেননি। তাঁদের এই সম্মানবোধ, উদারতা ও সৌজন্য আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ইতিহাসের প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না। মানুষের জন্য কে কী করেছেন, শিক্ষার প্রসারে কে কতটুকু অবদান রেখেছেন এবং সমাজের কল্যাণে কে কতটা ভূমিকা রেখেছেন—সময়ের বিচারে সেসবই হয়ে ওঠে মানুষের প্রকৃত পরিচয়। হয়তো সময়ের পরিক্রমায় অনেক নাম আড়ালে চলে যায়, অনেক অবদান বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যায়; কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের পূর্বসূরিদের শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তা জানার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের উন্নয়নে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকাও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।”
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, “ক্ষমতার পালাবদল হবেই।”
Leave a Reply