“সম্ভব্য যেভাবে আগামী ত্রয়োদশ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এর নেতারা অংশগ্রহণ করতে পারবে”
মুহাইমিন আহমেদ, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আরপিও তে ৪৬ টি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি ) । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আদালত কর্তৃক ফেরারি আসামী আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণ করতে পারবে না । এর আগে নিয়ম ছিলো , জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা সংবিধান এর ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ এবং আরপিও এর ১২(১) অনুসারে কোন বাক্তি কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়ে সর্বনিম্ন ২ বছর বা এর বেশি দণ্ডে দণ্ডিত হলে তার মুক্তির ৫ বছরের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না । কিন্তু আদালতে মামলা চলাকালীন সময় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে সে ফেরারি হোক বা না হোক , অন্য কোন বাধা না থাকলে সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে । এছাড়াও বলা হয় কোন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না ।
এই ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সংশোধনী অনুসারে করো বিরুদ্ধে মামলা থাকলে সে যদি আদালত কর্তৃক ফেরারি ঘোষিত না হয় তবে সে জেল এ থাকলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে ।
পতিত সরকার এর অনেক এমপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ এর অনেক নেতা কারাগারে রয়েছে এবং কেউ কেউ আবার পলাতক । সুতরাং, প্রাথমিকভাবে যারা কারাগারে আছে বা জামিনে আছে তারা অন্য কোন দলের প্রতীক এ বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধা নেই । তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কিভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এটা সময় বলে দিবে এমন মন্তব্য করেছে নির্বাচন কমিশন।
এখনও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো আদালত হতে ফেরারি ঘোষণা করা হয়নি ।
এর আগে গত ৫ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন যে ট্রাইবুনাল এ দণ্ডিতরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
এর আগে ২০১৮ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে এমন আলোচনা তৈরি হয়েছিল । নাইকো দুর্নীতি মামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল । যার কারণে সে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬(৪) এবং আরপিও ১২(১) এর ওপর ভিত্তি করে দ্বাদশ নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ।
এমন পরিস্থিতি এর আগে পাকিস্তান এ দেখা যায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে । যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এর দল তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দেশটির শেহবাজ সরকার ।পিটিআই’র বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যক্রম’র অভিযোগ এনে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শেহবাজ সরকার । পরবর্তিতে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআই এর নেতারা তাদের দল নিষিদ্ধ থাকার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং ১০১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন, যার বেশিরভাগ ছিল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ।
এছাড়া ৪ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করা হলে তিনি আর জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে বা সরকারি কোনো পদে বহাল থাকতে পারবেন না।
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ এ সেকশন ২৩ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উক্ত আইনের সেকশন ৯ এর ১ এর অধীনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন।
বর্তমানে সাবেক পতিত প্রধানমন্ত্রী ও সরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল এর বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল এ মানবতা বিরোধী মামলা চলমান আছে । যার ফলে তারা ২ জন নতুন নিয়ম অনুসারে পরর্বর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর অযোগ্য বিবেচিত হবেন ।
Leave a Reply