“বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি চর্চা করছি”
মো: শাহিন ইসলাম, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রথমেই নজরুলের মতই আমিও নমস্কার করছি আমার সত্যকে। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ি বা যা পড়েছেন বা যারা পড়েন না তারা সকলেই অবগত আছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বিশ্বের সকল জ্ঞানকে একত্রিত করে জ্ঞান আহরণ করা। এখানে যেমন বিশ্ব বিদ্যার আহরণ হয় তেমনি বিশ্ববিদ্যার লয়ও হয়। প্রথমেই আমাদের দ্বারা যে চর্চাটা হয় সেটি হচ্ছে, অনুপস্থিত কাউকে হাজিরা শিটে উপস্থিত করে দেওয়া, অনেকটা মৃত মানুষের ভোট দেওয়ার মত ঘটনা। এটা থেকেই মূলত আমাদের মাঝে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির চর্চাটা শুরু হয় যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব আমাদের কর্মজীবন পর্যন্ত বজায় থাকে। তার প্রমাণ আমাদের আমলাবৃন্দের দিকে তাকালেই দেখতে পারবেন। তারা প্রত্যেকেই দেশসেরা কোনো না কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আহমদ ছফা বলেছিলেন, “ বড় বড় নাম করা স্কুলে বাচ্চারা বিদ্যার চেষ্টা অহংকারটাই বেশি শিক্ষা করে।” পাবলিকে পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব সবসময় বিদ্যমান থাকে। আমরা যারা পাবলিকে পড়ি তারা খুব সহজেই পাবলিক আর প্রাইভেটের অর্থের পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। আমাদের সরকার এত টাকা বরাদ্দ দেন তা আসে কোথা থেকে?
নিশ্চয়ই এদেশের মানুষের ভ্যাট থেকে। তাতে সাধারণ মানুষের মাথার ঘাম ফেলা টাকার একটা অংশ থাকে। সেই আপনারাই সুযোগ পেলেই তাদের উপর আক্রমণ করে বসেন।
প্রতিদিন কত বাসের লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলেন নিজেকে প্রশ্ন করুন? কদিন আগেই টঙ্গী থেকে লোকাল বাসে ক্যাম্পাসে আসতেছিলাম, বাসটি জ্যামে আটকা পড়ে আছে, তার পাশ দিয়েই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের শিক্ষার্থীরা বাসের লুকিংগ্লাসটি টেনে নিয়ে ভেঙে ফেলল। আর বলল, “ চোখে বাল দ্যাখো মিয়া।” সেদিন বাস ড্রাইভারের চোখে কতটা অসহায়ত্ব আর ঘৃণা দেখেছি আমাদের জন্য বলে বোঝাতে পারবো না। দীর্ঘশ্বাস বলে একটি কথা আছে যেটা দারুণ ভয়ানক! আর এই শ্রেনীর মানুষদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিবা করার আছে।
এমন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলতে চাই, পারলে এ সমাজে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি এসবের বিরুদ্ধে লড়ুন, সেখানে সর্বশক্তি প্রয়োগ করুন।
Leave a Reply