“যুক্তরাষ্ট্রের ফুল ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেয়েছেন জবির তিন শিক্ষার্থী”
জবি প্রতিনিধি
উচ্চশিক্ষায় অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) তিন কৃতী শিক্ষার্থী। কঠোর অধ্যবসায়, একাডেমিক কৃতিত্ব এবং গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি ও গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (জিআরএ) পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। সফল এই তিন শিক্ষার্থী হলেন— মোরশেদ আলম, তিলোত্তমা রায় এবং মোঃ মাহমুদুল হাসান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোরশেদ আলম যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘University of Connecticut’-এ শিক্ষা (Education) বিষয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি ও গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (GRA) পেয়েছেন। সফলভাবে উচ্চশিক্ষার আবেদন সম্পন্ন করার পর সম্প্রতি তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও লাভ করেছেন। উল্লেখ্য, মোরশেদ আলম বাংলাদেশে গবেষণামূলক প্ল্যাটফর্ম ‘রিসার্চ হেল্প বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবাইলোজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তিলোত্তমা রায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ‘Wayne State University’-তে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। স্নাতকে ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৯৪ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮৩ সিজিপিএ অর্জনকারী তিলোত্তমা কর্মজীবনের পাশাপাশি নিরলসভাবে তাঁর গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি বর্তমানে নিউমোনিয়ার সম্ভাব্য ওরাল ভ্যাকসিন নিয়ে তাঁর উদ্ভাবনী গবেষণা ধারণা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে।
একই ধারাবাহিকতায় জবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে ২০২২ সালে স্নাতক ও ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর (থিসিস) সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী মোঃ মাহমুদুল হাসানও যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ অর্জন করেছেন। উদীয়মান এই ভূ-স্থানিক (Geospatial) গবেষক ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে ১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ, ২টি বইয়ের অধ্যায় এবং ৫টি সম্মেলন প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তা ছাড়া তিনি ‘Springer Nature’ ও ‘Elsevier’-এর মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালের পিয়ার রিভিউয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও একই সাথে একাডেমিক পড়াশোনা, চাকরি ও উচ্চমানের গবেষণা সামলে এই তিন শিক্ষার্থীর বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষকমণ্ডলী এবং সহপাঠীদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁদের এই অর্জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
Leave a Reply