“প্রথম ধাপে এল,এল,.বি, পাস: মানবসেবায় নিবেদিত রিপন কান্তি ধর রুপকের অনন্য অর্জন।”
জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার.. মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের সুপরিচিত মুখ, কবি-ছড়াকার, সাংবাদিক, সংগীতশিল্পী এবং দৈনিক ডেসটিনির প্রতিনিধি রিপন কান্তি ধর রুপক এলএল.বি পরীক্ষায় প্রথম ধাপে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
জীবনের নানা ব্যস্ততা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ অধ্যবসায় ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে তিনি এ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। পরীক্ষার প্রথম ধাপে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছেন।
রিপন কান্তি ধর রুপকের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমাজের জন্যও এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। কারণ, তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা, সংগীতচর্চা, সাহিত্যসাধনা এবং মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা অর্জনের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার প্রমাণ করে যে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স কিংবা ব্যস্ততা কোনো বাধাই নয়।
বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী
মৌলভীবাজার শহরে রিপন কান্তি ধর রুপক একজন সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে কবি, ছড়াকার, সংগীতশিল্পী, সাংবাদিক এবং সমাজসেবক গ্রাম ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট,সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। নব্বইয়ের দশক থেকেই দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় তাঁর কবিতা ও ছড়া প্রকাশিত হয়ে আসছে।
সংগীতাঙ্গনেও রয়েছে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। ১৯৯৪ সালে তিনি সিলেট বেতারে সংগীত পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তেও সংগীত পরিবেশনের সুযোগ লাভ করেন, তিনি বিভিন্ন মঞ্চে যাত্রাপালা, নাটক,অভিনয় করেন। তাঁর কণ্ঠ ও সংগীতপ্রেম স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে সমাদৃত।
এছাড়া মৌলভীবাজারের জনপ্রিয় সম্প্রচারমাধ্যম এফএম রেডিও পল্লীকণ্ঠ-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন। এই প্ল্যাটফর্মে তিনি অসংখ্য গান পরিবেশন করেছেন এবং নতুন শিল্পীদেরও সংগীত পরিবেশনের সুযোগ করে দিয়েছেন। সাংস্কৃতিক বিকাশে তাঁর অবদান স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর,ও অনেক বার ভারত ভ্রমণ করেছেন।
সাংবাদিকতায় সক্রিয় ভূমিকা
দৈনিক ডেসটিনির প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এবং দৈনিক স্বদেশের কন্ঠ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে, মৌলভীবাজার প্রাচীন পত্রিকা সাপ্তাহিক মুক্ত কথার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে দেয়াল পত্রিকায় লেখালেখি করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন রিপন কান্তি ধর রুপক। সমাজের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে যাচ্ছেন।
মানবসেবায় নিবেদিত এক মানুষ
রিপন কান্তি ধর রুপকের সবচেয়ে বড় পরিচয় সম্ভবত তাঁর মানবিকতা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি সবসময় অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। বিশেষ করে করোনাকালে তিনি প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। খাদ্য, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে অনেক পরিবারের দুর্দিনে পাশে ছিলেন।
পূজা, ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে তিনি দরিদ্র মানুষের মধ্যে পোশাক বিতরণ করে থাকেন। চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা, অপারেশন কিংবা প্রসূতি মায়েদের ডেলিভারির খরচ জোগাতে তিনি নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন।
অনেককেই চাকরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। অনেকেই টাকা পয়সা দিয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
চক্ষু চিকিৎসা ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর উদ্যোগ। বিভিন্ন চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে বহু দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ফলে অনেক মানুষ নতুন করে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন। তিনি ইচ্ছে করলে অনেক টাকা সঞ্চয় করতে পারতেন। যা কিছু আছে তিনি মানব সেবায় বিলিয়ে দিয়েছেন।
নিঃস্বার্থতার অনন্য দৃষ্টান্ত
স্থানীয়দের মতে, রিপন কান্তি ধর রুপক নিজের চেয়ে অন্যের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেন। নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন সীমিত রেখে তিনি অসহায় মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করেন। অনেক সময় নিজের কাজ স্থগিত রেখে অন্যের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে যান।
তাঁর পরিচিতজনদের ভাষায়, তিনি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেননি। সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। অন্যের উপকার করতে গিয়ে নিজের আর্থিক সঞ্চয়ের বিষয়েও খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। অনেকেই মনে করেন, তিনি যদি ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতেন, তাহলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পারতেন। কিন্তু মানবকল্যাণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা তাঁকে ভিন্ন পথ বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার পরও রিপন কান্তি ধর রুপক পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছেন। এলএল.বি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে শিক্ষা অর্জনের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। জীবনের যে কোনো পর্যায়ে অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নতুন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
তাঁর এই সাফল্য বিশেষ করে তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। কারণ, অনেকেই প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাজীবনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেন না। সেখানে পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রিপন কান্তি ধর রুপকের এই অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়।
শুভেচ্ছা ও প্রত্যাশা
রিপন কান্তি ধর রুপকের এলএল.বি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবরে মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আনন্দের সাড়া পড়েছে। শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও তিনি মানবসেবা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যা
Leave a Reply