“মোহনগঞ্জে আবারোও ধর্ষণের শিকার এক স্কুল ছাত্রী”
(পলাশ পাল, জেলা প্রতিনিধি)
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে প্রেমিকের সহযোগিতায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক আবির তালুকদারকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক জয় মিয়া (২২) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।আজ ৪ জুলাই শনিবার দুপুরের দিকে গ্রেপ্তারকৃত আবিরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী মোহনগঞ্জের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তার সাথে গ্রেপ্তারকৃত আবির তালুকদার পূর্ব পরিচিত এবং প্রেমের সম্পর্ক ছিল সেই সুবাদে গত ৩ জুলাই শুক্রবার দুপুরে ওই ছাত্রী তার এক চাচাতো বোনকে সাথে নিয়ে মোহনগঞ্জ বাজারে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে
বের হয়। এ সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেখা করার কথা বলে কথিত প্রেমিক আবির অটোরিকশাচালক জয় মিয়া নিজের গাড়িতে করে তাদের দুজনকে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের বার্ত্তারগাতী এলাকায় নিজের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।
বাসায় পৌঁছানোর পর ভিকটিমের চাচাতো বোনকে পাশের একটি কক্ষে বসিয়ে রেখে কথিত প্রেমিক আবির ও ওই ছাত্রী কথা বলছিল। আলাপের একপর্যায়ে আবির কক্ষ থেকে বিশেষ প্রয়োজনের কথা বলে সুকৌশলে বাইরে বেরিয়ে যায়। ভিকটিমের অভিযোগ অনুযায়ী, এ সুযোগে অটোরিকশাচালক জয় মিয়া ওই কক্ষে প্রবেশ করে স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ পরবর্তী
অভিযুক্ত দুজন খুব দ্রুতই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী সেখান থেকে বেরিয়ে সরাসরি স্থানীয় মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে ভুক্তভোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার বিকেলেই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার নওহাল এলাকার শিশুপার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে ধর্ষণে সহায়তাকারী কথিত প্রেমিক আবির তালুকদারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।গ্রেফতার পরবর্তী আবিরের দেওয়া তথ্য মতে
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আবির তালুকদার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাকরপুর গ্রামের মশিউর তালুকদারের ছেলে। সে তার পরিবারের সাথে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের টেঙ্গাপাড়া এলাকায় বসবাস করে আসছিল।
অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত অর্থাৎ ধর্ষক জয় মিয়া একই উপজেলার খসিদপুর গ্রামের স্বাধীন মিয়ার ছেলে। সে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের বার্ত্তারগাতী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিল। এবং পেশায় ছিল
অটোরিকশা চালক।
সম্প্রতি তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় সে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ফাঁকা বাসাতেই এ ঘটনা ঘটায় জয় ।
এ ন্যক্কারজনক ঘটনার পর শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জয় মিয়াকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগ এবং আবির তালুকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে প্রেমিক আবিরকে গ্রেপ্তার করে আজ ৪ জুলাই শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে, অন্যদিকে মূল অভিযুক্ত ও পলাতক আসামি জয় মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মামলার তদন্তসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম যথাযথ প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে।
Leave a Reply