“দুর্গাপুরে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি”
(পলাশ পাল,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি)
আজ ১৯ জুলাই রবিবার, রাত আনুমানিক ০২.৩০ এর দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের আঃ ওয়াদুদ মিয়ার বাড়িতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল রাত প্রায় ২.৩০ দিকে ডিবি পরিচয় দিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বাড়ির সকল সদস্যের হাত-পা ও মুখ বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, কাপড়-চোপড়, মুঠোফোন ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তিতে স্থানীয়রা এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানায় খবর দিলে খুব দ্রুততার সাথে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শাকের আহমেদ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শাহিনুর ইসলাম তালুকদারসহ পুলিশের চৌকসদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন আসে। সেই সাথে পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় যুবক এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পরবর্তী মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কলমাকান্দা উপজেলার সিদলী এলাকার তালতলা থেকে ডাকাত দলের তিনজন কে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলেন, হবিগঞ্জ জেলা বানিয়াচং থানার বাসিন্দা রাজ কুমার (২৬), জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার আব্দুল হামিদ (৪৫) ও ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলার চরলাল এলাকার শাহীন আলম (৪৮)। তবে আটকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্য মতে, ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার ভাতিজা সায়েদুর রহমান রামিম। তিনজনকে আটক করা গেলেও সায়েদুর রহমান রামিম সহ অন্যান্য আসামীরা কৌশলে পালিয়ে যায়।এ সময় ডাকাত দলের সদস্যদের কাছ থেকে ওয়াদুদ মিয়ার বাড়িতে ব্যবহৃত একটি মোবাইলফোন, ১১ হাজার ৪শত টাকা এবং ডাকাতির সময় নেয়া বেশ কিছু কাপড়-চোপড় উদ্ধার করা হয়।এ ব্যাপারে
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার আপন ভাতিজা সায়েদুর রহমান রামিম এর সার্বিক সহযোগিতায় ডিবি পরিচয়ে ওই বাড়িতে সাত জনের একটি দল ডাকাতির প্রস্ততি নেয় তারা। রাত প্রায় ২.৩০ এর দিকে ডিবি পরিচয় দিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। পরবর্তিতে বাড়ির সকল সদস্যের হাত-পা ও মুখ বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, কাপড়-চোপড়, মুঠোফোন ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আটকৃত আসামিদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করা যাচ্ছে এতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে। পালিয়ে যাওয়া ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষে পুলিশের একটি চৌকস দল বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। খুব দ্রুতই বাকিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে আশ্বস্ত করেন ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।পরবর্তিতে জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ডাকাত দলের অন্যন্যসদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিদের্শ দেন।
Leave a Reply