“শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘিরে মানিকগঞ্জে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠিত করার দায়িত্বে শিক্ষা ক্যাডার জাফর ইকবাল: অভিযোগ”
“আব্দুর রাজ্জাক ইশা রিপোর্টার”
মানিকগঞ্জ আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে পুনরায় সচল করা, কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং বিভিন্ন স্তরের জনশক্তিকে সংগঠিত করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে সাবেক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন সূত্রে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-কর্মচারী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে থাকা সাবেক আওয়ামী লীগ-সমর্থক ও সুবিধাভোগীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশেষ সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, সাবেক সরকারের পতনের পর আওয়ামীপন্থি অনেক ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি কিংবা নিরপেক্ষ পরিচয়ে অবস্থান নিলেও ভেতরে ভেতরে সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এসব যোগাযোগ আরও সক্রিয় হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষক, শ্রমিক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, সংবাদকর্মী, প্রশাসন, পুলিশ, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন সেক্টরে আওয়ামীপন্থিদের পুনর্মিলন ও যোগাযোগ বৃদ্ধির কার্যক্রম চলছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু নেতা-কর্মী দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর বর্তমানে নতুন পরিচয়ে আবারও সক্রিয় হয়েছেন।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে সাংগঠনিক চ্যানেলগুলো সচল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্রটির দাবি, মানিকগঞ্জ জেলার শিক্ষকদের মধ্যে সাংগঠনিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা জাফর ইকবালকে। তাকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালামের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকালে বিএনপিপন্থি নেতাদের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তিনি ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া বিএনসিসি, স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও জাফর ইকবাল বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই অনাগ্রহী বা ভীত।
সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে অন্য একজন সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তা থাকলেও বিভিন্ন কারণে শেষ পর্যন্ত জাফর ইকবালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার সাংগঠনিক দক্ষতা, বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আর্থিক সমর্থন পাওয়ার সক্ষমতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
অন্যদিকে, জাফর ইকবাল বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের কাছে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত একাধিক অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।
এদিকে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন নাগরিক মহল সরকারের কাছে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত সাবেক আওয়ামী লীগপন্থি ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনের কর্মী পরিচয় দেওয়া রবিন নামের একজন বলেন, অতীতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ থাকা কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
Leave a Reply