ঘিওরের এসআই সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে নিজ সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ।
মাহাবুব আলম তুষার
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈলতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং পুলিশের এসআই (সাব-ইন্সপেক্টর) সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে নিজের প্রথম পক্ষের সন্তান রনি মিয়াকে অবহেলা, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং পৈতৃক সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শিশু বয়সেই রনি তার মাকে হারান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সোহরাব আলী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই নতুন স্ত্রীর প্ররোচনায় প্রথম পক্ষের ছেলে রনির প্রতি চরম অবহেলা শুরু করেন তিনি। শৈশব থেকেই মৌলিক অধিকার, পিতৃস্নেহ ও যত্ন থেকে বঞ্চিত হয়ে অবহেলার মধ্য দিয়েই বড় হতে হয় রনিকে।
এ ব্যাপারে রনির বাবা সোহরাব হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান আমার ছেলেকে মানুষ করতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে অনেক খরচ হয়েছে তাকে অনেক টাকা ব্যয় করে বিদেশে পাঠিয়েছি শারীরিক এবং মানসিক চিকিৎসায় অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে রনির পিছনে
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোহরাব আলী দীর্ঘদিন ধরে ছেলে রনির কোনো খোঁজখবর নেন না। এমনকি তার লেখাপড়ার খরচসহ জীবনের ন্যূনতম চাহিদাগুলোও পূরণ করেননি। উল্টো বিভিন্ন সময় রনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিবেশীরা।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মানিকগঞ্জ শহরের ‘উত্তর সেওতা’ এলাকায় সোহরাব আলীর নিজস্ব একটি সুউচ্চ ৬ তলা ভবন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয় স্ত্রীর কুপ্ররোচনায় পড়ে সোহরাব আলী তার এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি থেকে প্রথম পক্ষের সন্তান রনিকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত করার চক্রান্ত করছেন এবং ছেলেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়চারা করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা (এসআই) হয়েও নিজের সন্তানের প্রতি এ ধরনের অমানবিক আচরণ ও অধিকার হরণের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রনি মিয়া এ বিষয়ে ন্যায়বিচার এবং তার আইনানুগ অধিকার আদায়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply