1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
“বন্ধু মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৩য় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং সম্পন্ন” ঘোড়াঘাটে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকদের মুখে খুশির হাসি। বালিয়াকান্দিতে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন” বদলগাছীতে ভিপি সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষ, ৫ দিন পর আহত মাসুদ রাজশাহী মেডিকেলে মৃত্যু জাবির ২১ হলে কম্পিউটার দিল জাকসু, ভবিষ্যতে ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা “দক্ষিণখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আন-নাহদা মডেল মাদরাসার ৩ ছাত্রী আহত” ধনবাড়ীতে ” নগদ উদ্যোক্তা সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা -২০২৬” অনুষ্ঠিত” মানিকগঞ্জে ঘিওরে ড্রেজার লিমনের দাপটে হুমকি মূখে বাজার ও কৃষি জমি। বিশ্ব কবিমঞ্চের নানান আয়োজনে সৈয়দ মুজতবা আলীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালন ঘোড়াঘাটে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস প্রয়োজন সরকারের সাহায্য ও সহযোগিতা ।

ধুনটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ”

  • আপডেট : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১০৪ জন দেখেছেন

ধুনটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ”

‎”আশেকে এলাহী শিবলী – ধুনট উপজেলা প্রতিনিধি বগুড়া”
বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. হাসনা হেনার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম, অসদাচরণ, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একটি প্রতিনিধিদল।

‎লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এর ফলে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের গাছ কেটে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছের কাঠ স্থানীয় একটি করাতকলে চেরাই করা হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নজরে এলে তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে তৈরি করা আসবাবপত্র উদ্ধার করেন।

‎এছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ব্যক্তিগত বাড়ির বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়া, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাক (স্কুল ড্রেস) তৈরি করে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্রি করা এবং সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

‎লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো অভিভাবক সন্তানের লেখাপড়ার খোঁজখবর নিতে বিদ্যালয়ে গেলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অশোভন আচরণ করা হয়। এতে বিদ্যালয়কে ঘিরে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ, উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

‎অভিযোগকারী সোহাগ বাবু ও শাহিন প্রাং সাংবাদিকদের জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেন না। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত বাড়ির বিভিন্ন কাজ করানো, সার্টিফিকেট প্রদান ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে অর্থ আদায়, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার মতো ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎এলাকার সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।

‎এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

‎ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা জাহান বানু বলেন, “অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

‎অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. হাসনা হেনা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ করেছে। আমি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

‎এদিকে অভিযোগ দাখিলের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্টদের আশা, তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

‎উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যাবে। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত বলে গণ্য করা হচ্ছে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির