“কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীতে উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধে নতুন ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কায় এলাকাবাসী”
মো: মাহমুদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা:
খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমের অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের চাপে বাঁধটির একাধিক অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙন দ্রুত মেরামত না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধটি ভেঙে গেলে দক্ষিণ বেদকাশীর একাধিক গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। অতীতেও এই বাঁধ একাধিকবার ভেঙে গিয়ে বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হয়েছিল, যার ক্ষত এখনো পুরোপুরি সারিয়ে উঠতে পারেননি এখানকার মানুষ। ঘূর্ণিঝড় আইলা ও আম্পানের সময়কার ভয়াবহ ভাঙন ও লবণাক্ত পানির ক্ষত আজও তাড়া করে বেড়ায় উপকূলবাসীকে। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।
কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর মতো একই চিত্র দেখা যাচ্ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার একাধিক ইউনিয়নেও। এসব এলাকার অন্তত ৪০টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। উপকূলীয় এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রতিবছর একই সংকটে পড়লেও স্থায়ী সমাধান আজও অধরাই থেকে গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শুধু জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক মেরামত করে বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব স্থায়ী বেড়িবাঁধ, যা জোয়ারের চাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা সহ্য করতে পারবে। বাঁধ নির্মাণ কাজে যাতে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে — ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দ্রুত জরুরি মেরামতের ব্যবস্থা করে অবিলম্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। উপকূলীয় এই জনপদের সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
Leave a Reply