“শোক সংবাদ
অশ্রুসিক্ত বিদায়—আর নেই নারী সাংবাদিক জিন্নাত আরা জেমিন।”
“মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হারুন রশীদ শেখ”
কিছু সংবাদ শুধু সংবাদ নয়—
কিছু সংবাদ হৃদয় ভেঙে দেয়, চোখের কোণে অশ্রু জমায়, বুকের ভেতর তৈরি করে এক গভীর শূন্যতা।
আজ তেমনই এক বেদনাবিধুর সংবাদ জানাতে হচ্ছে গভীর শোক ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে—
দৈনিক জনবাণী পত্রিকার প্রতিনিধি ও উত্তরবঙ্গের সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রামের প্রতিশ্রুতিশীল নারী সাংবাদিক জিন্নাত আরা জেমিন আর আমাদের মাঝে নেই।
তিনি দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াই করে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
তাঁর অকাল মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
জিন্নাত আরা জেমিন ছিলেন একজন স্বপ্নবান, সাহসী, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল নারী সাংবাদিক। অল্প সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি তাঁর মেধা, সততা, সাহস ও পেশাদারিত্ব দিয়ে সহকর্মী ও পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। মানুষের কথা বলা, মানুষের দুঃখ-কষ্ট তুলে ধরা এবং সমাজের অসংগতির বিরুদ্ধে কলম ধরার প্রতি তাঁর ছিল গভীর আন্তরিকতা।
আজ সেই কলম থেমে গেছে…
আজ সেই কণ্ঠ নীরব…
আজ সংবাদ সংগ্রহে ছুটে চলা সেই পরিচিত মুখটি চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে আমাদের দৃষ্টির আড়ালে।
সবচেয়ে নির্মম সত্য—
যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, আজ তাঁর চলে যাওয়ার খবরটিই আমাদের লিখতে হচ্ছে।
এ বেদনা সত্যিই বড় নির্মম।
গত ৮ আগস্ট, শনিবার, বাদ জোহর কুড়িগ্রাম শহরতলীর সর্দারপাড়ায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বাদ আসর কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের সরকারপাড়া কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
একজন তরুণ ও সম্ভাবনাময় সাংবাদিকের এভাবে অকালে চলে যাওয়া শুধু তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।
জিন্নাত আরা জেমিন, আপনি চলে গেছেন—কিন্তু আপনার স্মৃতি, আপনার কর্ম ও আপনার রেখে যাওয়া ভালোবাসা থেকে যাবে আমাদের মাঝে।
হয়তো আর কোনোদিন আপনার ব্যস্ত পদচারণা শোনা যাবে না।
হয়তো আর কোনোদিন ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসবে না আপনার পরিচিত কণ্ঠ।
হয়তো আর কোনোদিন সংবাদ নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা হবে না।
তবুও আপনার স্মৃতিগুলো থেকে যাবে—
সহকর্মীদের হৃদয়ে, স্বজনদের চোখের জলে, আর আপনার কর্মের পাতায়।
দৈনিক ঢাকা মেইল পত্রিকার পক্ষ থেকে সাংবাদিক জিন্নাত আরা জেমিনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। মহান আল্লাহ যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন।
হে মহান আল্লাহ,
মরহুমা জিন্নাত আরা জেমিনের জীবনের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন। তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন, কবরের আজাব থেকে তাঁকে হেফাজত করুন, তাঁর সকল নেক আমল কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।
আজ তাঁর জন্য আমরা কাঁদছি, কাল হয়তো আমাদের জন্যও কেউ কাঁদবে। জীবন সত্যিই বড় ক্ষণস্থায়ী।
তাই আসুন—
একজন প্রয়াত সহকর্মীর জন্য অন্তত একবার দু’হাত তুলে দোয়া করি।
হে আল্লাহ, জিন্নাত আরা জেমিনকে আপনি জান্নাতবাসী করুন। তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন এবং তাঁকে আপনার অসীম রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দিন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বিদায়, জিন্নাত আরা জেমিন…
বিদায়, এক সাহসী কলমযোদ্ধা…
আপনার কলম থেমে গেছে, কিন্তু আপনার স্মৃতি কখনো থামবে না।
মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
আমিন।
দৈনিক স্বদেশের কন্ঠের শোক বার্তা
Leave a Reply