“কয়রার বেজপাড়া হায়াতুননেছা দাখিল মাদ্রাসার সাফল্য: গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করলো ফারজানা”
“মোক্তার হোসেন,খুলনা জেলা প্রতিনিধি”
দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেজপাড়া হায়াতুননেছা দাখিল মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্রী ফারজানা আক্তার দাখিল পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার এই অনন্য সাফল্যে পুরো পরিবারসহ এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ফারজানা সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে। কয়রা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হয়েও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে এই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ফারজানা আক্তার বলেন, “আমার এই সাফল্যের মূল কারিগর আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ। তাদের নিঃস্বার্থ তত্ত্বাবধান ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলেই আমি আজ এই প্রশংসনীয় ফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘন্টা নিয়মিত পড়াশোনা করতাম। আমার সাফল্যের পেছনে আমার পিতার অক্লান্ত পরিশ্রম ও যত্নের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমার বাবা আমাকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখতেন। আমি তার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের এটি ছিল একমাত্র স্বপ্ন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার সেই আশা পূরণ করেছেন। এজন্য আমি আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া জ্ঞাপন করি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মেধাবী এই ছাত্রী বলেন, “আমার একটাই লক্ষ্য, আমি একজন আদর্শ ডাক্তার হয়ে মানবসেবা করতে চাই।
কৃতী সন্তানের সাফল্যে আবেগাপ্লুত ফারজানার পিতা বলেন, “আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি আমার মেয়ে গোল্ডেন এ প্লাস পাবে। আল্লাহ তার নেক আশা কবুল করেছেন। এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এটি নিছক আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি।
তিনি মেয়ের সাফল্যের জন্য মাদ্রাসার সকল শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন,”পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার সময় মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক জনাব মোক্তার হোসেন স্যার আমাকে বারবার বলতেন, ফারজানা গোল্ডেন এ প্লাস পাবে’। স্যারের সেই ভবিষ্যৎবাণী আল্লাহ কবুল করেছেন। আল্লাহ স্যারকে নেক হায়াত দান করুন। অন্যান্য শিক্ষকরাও সবসময় বলতেন ফারজানা ভালো কিছু করবে।
এ ব্যাপারে বেজপাড়া হায়াতুননেছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার জনাব এ.কে.এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ফারজানার এই অসাধারণ ফলাফলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সে আমাদের প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমি তার উচ্চশিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আন্তরিক দোয়া ও প্রত্যাশা করি।
ফারজানার এই সাফল্যের সংবাদে পরিবারের সদস্যসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। দারিদ্র্যকে জয় করে ফারজানার এই সাফল্য কয়রার হাজারো দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
মোক্তার হোসেন।
খুলনা।
Leave a Reply