“সরিষার মধ্যেই ভূত: আখাউড়ায় রেলের সম্পদ চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে আটক পিডব্লিউ কর্মচারী”
নিজস্ব প্রতিনিধি:
রক্ষক যখন নিজেই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন আর নিরাপত্তার কোনো আশা থাকে না। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হলো আখাউড়া রেলওয়ে এলাকা। রেলের মূল্যবান সম্পদ পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী নিজেই রেলের মালামাল চুরি করে বিক্রির সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, রেলওয়ের পথ বিভাগের (পিডব্লিউ) ওয়েম্যান মো. হুমায়ুন কবির রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ স্থানীয় একটি ভাঙারির দোকানে বিক্রি করার সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সতর্ক দৃষ্টিতে ধরা পড়েন, মো. হুমায়ুন কবির , ওয়েম্যান, রেলওয়ে পথ বিভাগ (পিডব্লিউ) কে আটক করেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), আখাউড়া।
আটকের সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের রেলওয়ের মূল্যবান লোহার যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
রেলের এই সম্পদগুলো গোপনে স্থানীয় একটি ভাঙারির দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে গেলে আরএনবি সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
রেলওয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মচারী, যার ওপর সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত, তার এমন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য কর্মচারীদের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যারা পাহারার দায়িত্বে আছেন, তারাই যদি এমন অপকর্মে লিপ্ত হন, তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা কোথায়?
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সূত্রে জানা গেছে, আটক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে রেলওয়ের নিজস্ব আইনে ও সরকারি সম্পদ চুরির দায়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, এই চুরির ঘটনার সাথে আরও কোনো কর্মচারী বা কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এমন ‘সরিষার ভূত’ তাড়াতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বি:দ্র: শুধু আখাউড়া নয়, সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি স্টেশনে এমন বহু হুমায়ন রেলওয়ে কে লুটে পুটে খাচ্ছে।
Leave a Reply