1. admin@dainikswadesherkantha.com : ADMIN :
  2. jakirjnu65@gmail.com : Admin : Admin
  3. Sajuahmedbd97@Gmail.com : Saju Ahmed : Saju Ahmed
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
“বন্ধু মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৩য় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং সম্পন্ন” ঘোড়াঘাটে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকদের মুখে খুশির হাসি। বালিয়াকান্দিতে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন” বদলগাছীতে ভিপি সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষ, ৫ দিন পর আহত মাসুদ রাজশাহী মেডিকেলে মৃত্যু জাবির ২১ হলে কম্পিউটার দিল জাকসু, ভবিষ্যতে ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা “দক্ষিণখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আন-নাহদা মডেল মাদরাসার ৩ ছাত্রী আহত” ধনবাড়ীতে ” নগদ উদ্যোক্তা সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা -২০২৬” অনুষ্ঠিত” মানিকগঞ্জে ঘিওরে ড্রেজার লিমনের দাপটে হুমকি মূখে বাজার ও কৃষি জমি। বিশ্ব কবিমঞ্চের নানান আয়োজনে সৈয়দ মুজতবা আলীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালন ঘোড়াঘাটে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস প্রয়োজন সরকারের সাহায্য ও সহযোগিতা ।

ঘোড়াঘাটে খামারি অ্যাপের সুপারিশ বনাম কৃষকের চাহিদা; সার বিক্রিতে বিপাকে ডিলাররা ।”

  • আপডেট : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৭ জন দেখেছেন

ঘোড়াঘাটে খামারি অ্যাপের সুপারিশ বনাম কৃষকের চাহিদা; সার বিক্রিতে বিপাকে ডিলাররা ।”

মোঃ কায়সার হাবীব পাপ্পু।

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আমন মৌসুমে সার বিক্রি নিয়ে নতুন করে জটিলতায় পড়েছেন সার ডিলাররা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘খামারি অ্যাপ’-এ জমির ধরন ও ফসলের প্রয়োজন বিবেচনায় যে পরিমাণ সার ব্যবহারের সুপারিশ করা হচ্ছে, অনেক কৃষক তার তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি সার দাবি করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের সঙ্গে ডিলারদের বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার দিতে না পারায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগও করা হচ্ছে।

ডিলারদের অভিযোগ, অ্যাপে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে সার বিক্রি করলে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার না দিলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। ফলে দুই দিক সামলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের সার ডিলার আহম্মদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইশতিয়াক আহম্মেদ খান বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই সার বিক্রি করতে হচ্ছে। ডিএপি ও এমওপি নিয়ে তেমন সমস্যা না থাকলেও টিএসপি নিয়ে কৃষকদের চাপ সবচেয়ে বেশি।

তিনি জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলায় মোট ১৯ জন সার ডিলার রয়েছেন। এর মধ্যে পৌরসভায় চারজন, সিংড়া ইউনিয়নে ছয়জন, পালশায় চারজন, ঘোড়াঘাট ইউনিয়নে দুজন এবং বুলাকিপুর ইউনিয়নে তিনজন। এসব ডিলারের জন্য প্রতি মাসে টিএসপি বরাদ্দ রয়েছে ১৩৫ মেট্রিক টন। সে হিসাবে গড়ে একজন ডিলারের মাসিক বরাদ্দ পড়ে প্রায় ৭ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন।

ইশতিয়াক আহম্মেদ বলেন, ‘টিএসপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। যেখানে বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ কেজি টিএসপি প্রয়োজন বলে অ্যাপে সুপারিশ করা হচ্ছে, সেখানে অনেক কৃষক ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সার চাইছেন। এত বেশি চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বেশি দিলে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ, আবার কম দিলে কৃষকের অভিযোগ—দুই দিকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

তবে কৃষকদের ভাষ্য, জমির সারের প্রয়োজনীয়তা শুধু একটি অ্যাপের হিসাব দিয়ে নির্ধারণ করা সব সময় বাস্তবসম্মত নয়। জমির ধরন, আগের ফসল, মাটির উর্বরতা এবং দীর্ঘদিনের চাষাবাদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কোনো কোনো জমিতে বেশি সার প্রয়োজন হতে পারে।

বুলাকিপুর ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম এবং সিংড়া ইউনিয়নের বৈদর গ্রামের আনোয়ার ও আব্দুল আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বিভিন্ন জমিতে চাষাবাদ করছেন। কোন জমিতে কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, সে বিষয়ে তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অ্যাপে কম পরিমাণ সার ব্যবহারের সুপারিশ থাকলে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার প্রয়োগ করে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকদের এমন দাবির বিষয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বেশি সার ব্যবহার করলেই বেশি ফলন হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মাটির গুণাগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, ‘এবার উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। ফসলের ধরন, জমির মাটির গুণাগুণ ও প্রয়োজন বিবেচনা করেই খামারি অ্যাপে সারের সুপারিশ করা হয়। কৃষকদের ওই সুপারিশ অনুযায়ী সুষম সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত সার ব্যবহারে কৃষকের লাভের পরিবর্তে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। তাই ডিলারদেরও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার বিক্রির জন্য বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খামারি অ্যাপে সারের পরিমাণ নির্ধারণের পদ্ধতি কৃষকদের কাছে আরও সহজভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো এলাকার মাটির বাস্তব অবস্থা ও অ্যাপে দেওয়া সুপারিশের মধ্যে পার্থক্য থাকলে মাঠপর্যায়ে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা দরকার।

তাঁদের মতে, আমন মৌসুমে কৃষকের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, ডিলার ও কৃষকদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কারণ ঘোড়াঘাটে সার নিয়ে তৈরি হওয়া বর্তমান বিরোধ শুধু সরবরাহের বিষয় নয়; সরকারি সুপারিশ, বিক্রির নিয়ম এবং কৃষকের মাঠের অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিও এর অন্যতম কারণ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ
আইটি সহযোগিতায়: আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির