“মানিকগঞ্জে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নামের আগে ডাঃ ব্যাবহার”
মাহাবুব আলম তুষার,মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জ হরিরামপুর উপজেলা বলড়া বাজারে চৌধুরী ফার্মেসীতে ‘নামের আগে ডাঃ লিখে নিজেদেরকে এমবিবিএস সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রেজিষ্ট্রার ডাক্তার পরিচয় দিয়ে নিয়মিত রোগী দেখছেন আঃসালাম চৌধুরী,মোঃ ইসমাইল চৌধুরী ও মোঃ ইউসুফ চৌধুরী। তারা উভয়ে ব্যাক্তিগত প্যাড(প্রেসক্রিপশনে) ডাঃ লেখেন এবং সিরিয়াল দিয়ে ফিস নিয়ে নিয়মিত রোগী দেখেন।এরা ৩জন ভূয়া ডাক্তার,রোগীদের বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা দেন এবং শিশুদের সুন্নতে খাতনা পর্যন্ত করে থাকেন,যা অতি বিপদজনক। তারা চিকিৎসা বিষয়ে কিছু কোর্স সম্পন্ন করে নিজেদেরকে এমবিবিএস সহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ রেজিষ্ট্রার ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেন।বলড়া বাজারে চৌধুরী ফার্মেসীতে সরজমিনে গিয়ে আঃসালাম চৌধুরীকে পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায় তিনি এমবিবিএস ডাক্তারদের মতো করে রোগী দেখছেন।এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক উপস্থিতি টের পেয়ে গড়িমসি করেন এবং এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন নামের আগে ডাঃ শব্দটি প্রেসক্রিপশনে ব্যবহার করেছেন। তিনি উত্তরে বলেন,আমার লেখার এক্তিয়ার রয়েছে তাই ব্যবহার করেছি। তিনি চেম্বার খুলে বসেছেন। ১০০ টাকা ভিজিটে রোগী দেখেন, যা চিকিৎসা সেবা আইনের বহির্ভূত কাজ। তিনি তার প্রেসক্রিপশনে রোগীর জন্য এন্টি বায়োটিক সহ বিভিন্ন ব্যাথার ইনজেকশন লিখেন,যা তার লেখার অনুমতি নেই। আঃসালাম চৌধুরী কাছে আসা ছোট্ট এক শিশুর মাকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি এখানে কেন এসেছেন, উত্তরে তিনি বলেন,আমার ছোট্ট মেয়ের জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি নিয়ে এখানে চিকিৎসা করাতে এসেছি। ডাঃ আঃসালাম চৌধুরী আমার ছোট্ট মেয়ে কে দেখে প্রেসক্রিপশনে কি কি যেন ইনজেকশন ও ঔষধ লিখে দিলো বিল হল ৩ হাজার টাকা এবং ঔষধ গুলো এখানেই পাওয়া যায়। ঔষধের দাম নিয়েও রয়েছে তার কৌশলগত প্রতারনা। কম দাবি ঔষধ লিখে রোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আঃসালাম চৌধুরী। তিনি নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাকে আরো জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি জানেন না সাম্প্রতিক কালে মহামান্য হাইকোর্ট একমাত্র এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া নামের আগে ডাঃ লেখা নিষেধ করেছেন, তিনি উত্তরে বলেন ,আমার জানা নেই।এ দিকে এক পর্যায়ে তিনি আরো বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্ট আলাদা। আমরা নামের আগে ডাঃ লিখতে পারি। বলড়া বাজারে অপর ২জন ভূয়া ডাক্তার মোঃ ইসমাইল চৌধুরী ও মোঃ ইউসুফ চৌধুরীর ঘর বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ কে এম রাসেলের নিকটে ফোন দিলে তিনি বলেন,একমাত্র এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া নামের আগে কেউ ডাঃ লিখতে পারবে না। বিষয়টি জানলাম উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইউএনও মহোদয়কে সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ খুরশিদ আলম সাংবাদিকদের জানান,বিএমডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এমবিবিএস ও বিডিএস ব্যতীত নামের আগে কেউ ডাঃ লিখতে পারবে না।উল্লেখ্য সাম্প্রতিক কালে মহামান্য হাইকোর্ট একটি চুড়ান্ত রায় প্রকাশ করেছেন,যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে একমাত্র এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া কেউ নামের আগে ডাঃ লিখতে পারবে না। লিখলেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply