“ঘিওর খাদ্যগুদামে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, সাময়িক বরখাস্ত ২ কর্মকর্তা”
আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার
৪১ টন ধান অতিরিক্ত, ৬ হাজার ৫০০ বস্তারও মিলছে না হিসাব
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত যাচাইয়ের সময় বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিশেষ অডিটে গুদামটিতে ১২০ টন চাল ও গম কম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চালের ঘাটতি ১০০ টন এবং গমের ২০ টন। বিপরীতে মজুতের হিসাবের তুলনায় ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তারও কোনো হিসাব মিলছে না।
এ ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্য পরিদর্শক ও গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতিও চলছে। একই সঙ্গে দুজনকেই বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট প্রকাশিত নিয়মিত পাক্ষিক প্রতিবেদনে ঘিওর খাদ্যগুদামের মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানো হয়েছিল। তবে এর মাত্র ১০ দিনের মাথায় পরিচালিত বিশেষ অডিটে বড় ধরনের গরমিলের তথ্য সামনে আসে। অডিটে চাল-গমের ঘাটতির পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান এবং বিপুলসংখ্যক খালি বস্তার হিসাব না থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—১৫ আগস্টের প্রতিবেদনে মজুত ঠিকঠাক দেখানোর পর এত অল্প সময়ে কীভাবে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি তৈরি হলো। নিয়মিত মজুত যাচাই, হিসাব সংরক্ষণ ও গুদাম তদারকিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান জানান, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট চলছে। এর অংশ হিসেবে ঘিওরের গুদামেও মজুত যাচাই করা হয়। সেখানে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে ঘিওর খাদ্যগুদামটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর গুদামটি সিলগালা করা হয়।
সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত খাদ্যশস্যের সঠিক হিসাব রাখা, সংরক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। সে ক্ষেত্রে পাক্ষিক প্রতিবেদনে মজুত স্বাভাবিক দেখানোর পর অল্প সময়ের ব্যবধানে এত বড় ঘাটতি ও হিসাবের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ১২০ টন চাল-গম কম পাওয়ার বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি থাকার কারণও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এটি হিসাবের ভুল, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নাকি অন্য কোনো অনিয়মের ফল—বিভাগীয় তদন্ত শেষ হলে তা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তদন্তে খাদ্যগুদামের মজুত ব্যবস্থাপনা, হিসাবপত্র সংরক্ষণ, তদারকি ব্যবস্থা, খাদ্যশস্যের ঘাটতির কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply