“জিএম কাদেরের সংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা”
কবির হোসেন, জেলা প্রতিনিধি রংপুর।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) এবং দলটির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে জিএম কাদেরের দেওয়া দশজন নেতাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, দপ্তর সম্পাদক-২ এম.এ রাজ্জাক খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ (চট্টগ্রাম), নাজমা আকতার (ফেনী), মো. জহিরুল ইসলাম জহির (টাঙ্গাইল), মোস্তফা আল মাহমুদ (জামালপুর), জসীম উদ্দিন (নেত্রকোনা) এবং আরিফুর রহমান খান (গাজীপুর)।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জিএম কাদেরের সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত ওই ১০ জনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদবি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গঠনতন্ত্রের ২০(১)(ক) ধারা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার জন্যও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আব্দুল বারী বলেন, “আদালতের আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জিএম কাদের সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। পাশাপাশি অব্যাহতিপ্রাপ্তদের পদ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।”
মোকাদ্দমার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা পার্টির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ২৮ ডিসেম্বর জিএম কাদের সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেন, যা অবৈধ বলে দাবি করা হয়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ জুন জিএম কাদের ১০ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেন এবং তাদের নাম জাতীয় পার্টির ওয়েবসাইট থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ১০ জুলাই ১০ জন বাদী একযোগে জিএম কাদেরসহ চারজনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন।
Leave a Reply