“প্রবাসীর বোনকে নিয়ে বিরোধের জেরে কুমিল্লায় মামাকে কুপিয়ে হত্যা, ভাগ্নে গ্রেপ্তার”
সাইদুজ্জামান ভুইয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নে প্রবাসীর বোনকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধ ও প্রেমের সম্পর্কের জেরে মাসুদ মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েy হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নিহতের ভাগ্নে শিপন মিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মাসুদ মিয়ার ভাগ্নে (বোনের ছেলে) ও মামলার প্রধান অভিযুক্ত শিপন মিয়ার সাথে স্থানীয় এক নারী (লাজু) প্রেমের সম্পর্কে জিপ্ত ছিলেন। এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে শিপন মিয়া নিহত মামা মাসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুৎসা রটিয়ে আসছিলেন। এর জেরে দীর্ঘদিন ধরেই মামা-ভাগ্নের মধ্যে মনমালিন্য ও বিরোধ চলে আসছিল।
গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাতে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে কৌশলে মাসুদ মিয়াকে কোড়েরপাড় মধ্যপাড়া এলাকার ইসরাইলের বাড়ির পূর্ব পাশের কাঁচা রাস্তার ওপর ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ওত পেতে থাকা অভিযুক্ত শিপন মিয়া তার সাথে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাসুদ মিয়ার গলার পেছনের অংশ, ঘাড়ের বাম দিক, বুক, পিঠ, পেটের ডান পাশে এবং পাজরে উপর্যুপরি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়েt গুরুতর জখম করেন। এছাড়া তার ডান হাঁটুর নিচেও মারাত্মক জখম করা হয়।
হামলার সময় নিহতের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে, অভিযুক্ত শিপন হাতে থাকা রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র উঁচু করে প্রদর্শন করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই মাসুদ মিয়ার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং- ২১, তারিখ: ২৫/১০/২০২৬ ইং, ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেছেন।
মামলার বিষয়ে বাঙ্গরাবাজার থানার ওসি(তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “আমরা ইতোমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছি। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
Leave a Reply