“তিস্তার পানি বাড়ায় সুন্দরগঞ্জে নদী ভাঙ্গন শতাধিক পরিবার নিঃস্ব”
ফিরোজ কবির উপজেলা প্রতিনিধি সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে দুই শতাধিক একর ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে গেছে। নদীভাঙ্গনের আশঙ্কায় রয়েছে হাজারো পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শত শত একর ফসলি জমি।
ভাঙ্গন ঠেকাতে জিও ব্যাগ, জিও টিউব ও ব্লক ফেলেও তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিনই নদীর পাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কাপাসিয়া, শ্রীপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে নদীভাঙ্গনের ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লালচামার, চরিতাবাড়ী ও কানি চরিতাবাড়ী গ্রামে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের মানুষ নদীভাঙ্গনের আতঙ্কে দিন কাটায়। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
লালচামার গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মমিনুল জানান, সামান্য পানি বাড়লেই ভাঙ্গন শুরু হয়। ইতোমধ্যে আমাদের বাড়িঘর, ফসলি জমি সবকিছু নদীতে চলে গেছে। সরকারি ভোরের পাখি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক বিঘা জমি হুমকির মুখে রয়েছে।
চরিতাবাড়ী গ্রামের হোসেন আলী বলেন,আমার জীবনে ১২ বার নদীভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়েছি। আর পারছি না এই কষ্ট সইতে।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া জানান,উত্তর লালচামার গ্রামে তিস্তার তীব্র ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। স্কুল, মসজিদসহ বহু স্থাপনা হুমকির মুখে। সরকারি সহায়তা খুবই সীমিত, মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।
তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দাবি, অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে নদীভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তা না হলে প্রতিবছর এভাবেই তারা সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে।
Leave a Reply