“জুলাই গণঅভ্যুত্থান: লক্ষ্য পূরণে অবিচল থাকার আহ্বান ইআবি উপাচার্যের”
মোঃ সিয়াম ঢাকা আলিয়া প্রতিনিধি।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক এই অভ্যুত্থান। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, এই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
রবিবার (আজ) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও রক্তের মর্যাদা
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক, কবি ও সাহিত্যিক অধ্যাপক আবদুল হাই শিকদার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের রক্তের সঙ্গে কোনো গাদ্দারি মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বাংলাদেশে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।
অধ্যাপক শিকদার আরও বলেন, যে তরুণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছে, তাদের স্বপ্ন ও চিন্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, ইতিহাসের প্রতিটি বড় বিপ্লব তরুণদের হাত ধরেই সংগঠিত হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, কোনো ধরনের ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনি জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনার পরিপন্থী।
জুলাই ঘোষণাপত্র: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঐক্য
জুলাই ঘোষণাপত্র এর প্রশংসা করে অধ্যাপক শিকদার বলেন, এই ঘোষণাপত্র পাঠের দিনটি ছিল জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সেদিন সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ এক মঞ্চে একত্রিত হয়েছিল, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঐক্যের সূচনা করেছিল।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও নিজস্ব সংস্কৃতির সুরক্ষা
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি আজ ভারতীয় শব্দ ও অনুপ্রবেশের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই আগ্রাসন থেকে আমাদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হলে সাংস্কৃতিকভাবে জয়ী হতে হবে বলে তিনি মত দেন।
অন্যান্যদের বক্তব্য ও দোয়া মাহফিল
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আইউব হোসেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এ. এস. এম মামুনুর রহমান খলিলী, কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ অলী উল্লাহ, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, এবং জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু সালেহ মুহাম্মদ মুসা।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. রফিক আল মামুন, উপ-রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী সহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
Leave a Reply