“খুলনা-পাইকগাছা সড়কের তালা উপ-শহরের বেহাল দশা”
মাহমুদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি
খুলনা-পাইকগাছা প্রধান সড়কের তালা উপ-শহরের জেলেপাড়া নামক স্থানে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খুলনা-আঠারোমাইল-তালা-পাইকগাছা-কয়রা রুটে বাস চলাচল ব্যাহত হচ্ছে । ভারি বর্ষণের কারণে সড়কের অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। পরিস্থিতি এতোটাই নাজুক যে জনসাধারণের পায়ে হেঁটে পার হওয়াটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অনেকে মোটরসাইকেল ভাড়া করে গন্তব্যে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বহীনতা এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালীপনার কারণে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে বলে ভুক্তভোগিরা জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা-পাইকগাছা প্রধান সড়কের তালা উপ-শহরের জেলেপাড়া এলাকা হতে প্রায় তালা ব্রিজ মোড় পর্যন্ত চলমান রাস্তা ঠিকাদার কর্তৃক খুঁড়ে রেখে দেয়া ও বিরামহীন বৃষ্টিপাতে সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খুলনা হতে আঠারোমাইল- তালা হয়ে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় যান চলাচলের একমাত্র প্রবেশপথ এটি। কিন্তু সড়কের উক্ত স্থানে এমন করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে বাস, ট্রাকসহ অন্য সকল যানবাহন ওই এলাকা পার হতে গেলেই খাদে পড়ে আটকে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা। এমনকি পথচারীরা পায়ে হেঁটে পার হতেও পারছে না। রোববার সড়কটিতে চলাচলে একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন মালিক সমিতি। সোমবার সকাল থেকে ভারি বর্ষণের কারণে সড়কের অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।
বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি অমরেশ কুমার মন্ডল জানান, আঠারো মাইল থেকে তালা সদর হয়ে পাইকগাছা পর্যন্ত ৬ স্থানের রাস্তার খুব খারাপ অবস্থা। তালা থানা-ব্রিজ মোড়ের মধ্যবর্তী স্থান এবং কপিলমুনি ফকিরবাসা মোড়, গোলাবাটী মোড়, মুচির পুকুরের মোড়ের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ইট-বালু ফেলে মেরামতের চেষ্টা করছি।
একজন পথচারী জানান, ঠিকাদার ও আর এন্ডএইচ’র কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে চরম মাশুল গুণতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের।
বাস, ট্রাক, পিকআপ, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল চালকরা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও সড়ক জনপদের কর্তাদের দায়িত্বে অবহেলায় আজ এই মাশুল গুণতে হচ্ছে আমাদের। ভুক্তভোগীরা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
খুলনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-পাইকগাছা রুটে প্রতি ১২ মিনিট পর পর একটি গাড়ি ছেড়ে যায়। সে হিসেবে ১২০টি গাড়ি চলাচল করে এবং ৭০টি ঢাকার পরিবহন চলাচল করে এ সড়কে। সড়ক খারাপ হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই দুইদিন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপা রানী সরকার জানান, সড়কের বিষয়টি নিয়ে আমি খুলনা বিভাগীয় প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার করা হবে।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক জানান, ভাঙ্গা সড়কে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হবে।
Leave a Reply