“লোনা ইলিশ; সর্বশেষ কবে খেয়েছি স্মরণ নেই।
মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খুলনা শহর প্রতিনিধি।
নোনা ইলিশ স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয়, দামও মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে। প্রতিপিছ ৫০০-৬০০ গ্রামের নোনা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে চারশত থেকে পাঁচশত টাকা, ৪০০-৫০০ গ্রামের নোনা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তিনশত থেকে চারশত টাকা।
খুলনা শহরের অন্যতম প্রবেশদ্বার রূপসা ঘাটের পূর্ব পাড়ের রাস্তার দুই পাশে রয়েছে কয়েকটি ছোট-খাটো অস্থায়ী দোকান। কোনোটি চায়ের দোকান, কোনোটি গৃহস্থালির ছোটখাটো নানান তৈজসপাত্র। বিকেল গড়ালে যাত্রী একটু বেশিই থকে। পরিবহন শ্রমিকেরা হাঁকডাক করে যাত্রী জোগাড় করছেন। বিচিত্র সুর আর নানা ভঙ্গিমায় যাত্রীরা ছুটে চলছে যার গন্তব্যস্থলে।
যাত্রীদরে হাঁকডাকের মধ্যে কানে ভেসে আসে অন্য সুর—‘ইলিশ নেন, নোনা ইলিশ… গন্ধে অতুলনীয়;খেতে মজা। এই আন্টি, মাছ লন। আসুন মাছ দেখুন।’ ঘাটের পল্টুনের সামান্য দূরে একপাশে দাঁড়িয়ে দু’জন যুবক নোনা ইলিশ বিক্রি করছিলেন। ক্রেতাকে নোনা ইলিশ বুঝিয়ে দিতে দিতে তারা হেঁকে চলছিলেন। দু’টি গামলায় লবণ দিয়ে থরে থরে সাজানো ইলিশ। চাঁদপুর থেকে এই ইলিশ ক্রয় করে ১২ জনে মোট ছয়টি দলে বিভক্ত হয়ে খুলানর বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তারা আসছেন এই ইলিশ বিক্রি করতে।
বর্তমান যুবকরা এই মাছের সাথে সামান্যই পরিচিত। গরম ভাতের সাথে এই মাছের রেসিপি বেশ সুস্বাদু। রূপসা ফেরিঘাটের পাশেই পসরা সাজানো এই ইলেশের বোচাকেনার হাকডাক। কেও ঘ্রাণ নিয়ে দেখছে কেমন মাছ, কেও হাত দিয়ে ছুয়ে দেখছে।
রূপসা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা সুরোজিত মন্ডল তিনি দুইটা লোনা ইলিশ ক্রয় করেন। তিনি বলেন, এই ইলিশ বেশ মজা লাগে খাতি। সরিষ বাটা এবং টমেটো দিয়ে রান্না করতি বলবো গিন্নিকে। এই মাছ সবসময় পাওয়া যায় না আমাগো রূপসায়, আজ পেয়েছি তাই দুইপিছ কিনেছি।
আঠারো ২১ বয়সী যুবক হেলাল হোসেন বলেন, এই ইলিশ সর্বশেষ কবে খেয়েছি স্মরণ নেই। তবে মাছগুলো দেখতে দূর থেকে বেশ ভালোই লাগছে এজন্য এগিয়ে আসছি দেখতে।
বেশ কিছুক্ষণ এসব দেখার পর কাছে যেতেই মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বিক্রেতা আবির বললেন, ‘বেচাকেনা খুবই কম, যা হয় তাতেই কোনোরকম সংসার চলে যায়।’ কেন আপনার এই পেশায় আসা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাই বন্ধুরা দেখি এই ব্যবসা করছে। কোনো কোন লোক আছে যাদের জীবনটাই কেটে গেছে এই ব্যবসায়, তাদের সাথে চলাচল করার সুবাদে আমিও এই ব্যবসায় যোগ দিয়েছি।
আবিরের সাথে ছিলো তাঁর চাচাতো ভাই রকমাতুল্লাহ তিনি বলেন, এই ইলিশ আমরা চাঁদপুর থেকে কিনে বিভ্ন্নি জায়গায় বিক্রি করি। সাধারণত বৃষ্টির সিজনে মাছ একটু বেশিই বিক্রি হয়। কোনোদিন পাঁচশত টাকা আবার কোনদিন আটশত টাকা বা হাজার টাকাও লাভ হয়।
তারা দু’জনই জানান, চলতি ইলিশের মৌসুমে এই মাছ চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা মজুদ করে রাখে লবণ দিয়ে। মাছগুলো পরিষ্কার করে ডিমগুলো পেট থেকে বের করে, তারা এগুলো আড়তে উঠালে, আমরা এগুলো পাইকারি দরে কিনে নিই। এ মাছগুলো লবণ দেওয়া অবস্থায় আমনা তিনমাস থেকে সাড়ে তিনমাস সংরক্ষণ করে রাখতে পারি। এগুলো বারোমাসই বিক্রি করি, বর্ষা-বাদলাই একটু বেশিই বিক্রি হয়। আমরা প্রায় পাঁচ বা সাত মাস ধরে এই ব্যবসা করছি। যদি যুতসই হয় আগামীদিনেও এই ব্যবসা চালিয়ে যাবো।
Leave a Reply