“একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার”
সাখাওয়াত হাসান (বিজয়) দূর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ১৫ আগস্ট সকাল দিকে ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই চার লাশের পাশে চিরকুট পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাঁদের ছেলে মাহিন ও মিথিলা মাহিন খড়খড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো। মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যাতে ঋণের কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনারুল ইসলাম কৃষিকাজ করেন। তাঁর কাছে অনেকেই টাকা পাবেন। তাঁদের বসতবাড়ির উত্তরের ঘরে মনিরা বেগম ও তাঁর মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে। আর দক্ষিণের ঘরে মিনারুল ইসলাম ও তাঁর ছেলের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে ছিল।
চিরকুটে লেখা আছে, আমি মিনারুল নিচের যে সব লেখা লেখবো। সব আমার নিজের কথা লিখে যাচ্ছি। কারণ, আমরা চারজন আজ রাতে মারা যাবো। এই মৃত্যুর জন্য কারো কোনো দোষ নেই।
এতে লেখা আছে, আমি মিনারুল প্রথমে আমার স্ত্রীকে মেরেছি। তারপর আমার মাহিমকে ছেলে মেরেছি। তারপর আমার মিথিলাকে মেয়ে মেরেছি। তারপর আমি নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে মরেছি।
চিরকুটে আরও লেখা আছে, আমাদের চারজনের মরা মুখ যেন বাপের বড় ছেলে ও তার স্ত্রী-সন্তান না দেখে এবং বাপের বড় ছেলে যেন জানাজায় না আসে। আমাদের চার জনকে কাফন দিয়ে ঢাকতে আমার বাবা যেন টাকা না দেয়। এটা আমার কসম।
চিরকুটের আরেক পাতায় লেখা আছে, আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম, কারণ আমি একা যদি মরে যাই তাহলে, আমার স্ত্রী-সন্তানরা কার আশায় বেঁচে থাকবে? কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না।
আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না। তাই আমারা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভাল হলো। কারও কাছে কিছু চাইতে হবে না। আমার জন্যে কাউকে মানুষের কাছে ছোট হতে হবে না। আমার বাবা আমার জন্য অনেক মানুষের কাছে ছোট হয়েছে, আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
Leave a Reply