“খেলাধুলা ভ্রমণ আর ইতিহাসের সন্ধ্যানে শহীদ আমান উল্লাহ্ হলের এক দিন”
রহমাতুল্লাহ, খুলনা শহর প্রতিনিধি
দিনটি ছিলো শনিবার, খেলাধুলা ভ্রমণ আর ইতিহাসের সন্ধ্যানে খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শহীদ আমান উল্লাহ্ হলের ৭৫ জন ছাত্র শিক্ষাসফরের উদ্দেশ্যে গাড়িযোগে রওনা হয় পিরোজপুরের আল্লামা সাঈদী ফাউনডেশন, বাগেরহাটের হজরত খান জাহান আলী রহ. এর মাজার, ষাট গম্বুজ মসজিদ ও চন্দ্রমহল ইকোপার্ক। যাতায়াতের পথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খান জাহান আলী সেতু, ধলেশ্বর নদীসহ নানান নদ-নদী। সোনালি রোদ, কখনো হালকা বৃষ্টি, মৃদু বাতাস, পাখির গান- সবমিলিয়ে যেন এক অপরূপ স্বর্গরাজ্যের হাতছানি। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিলো কুরআন তেলোয়াত, ইসলামী সংগীত, হাসির জোকস সহ নানান মজার আয়োজন।
প্রথমে পৌছায় খুলনা থেকে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দূরে অবিস্থত আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনে। চিরনিদ্রায় শায়িত মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। সাঈদী ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি পণ্ডিত, বক্তা এবং রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গা থেকে কবর জিয়ারত করতে আসেন দেশের নানান প্রান্ত থেকে। ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট জেলে থাকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেখানে পৌছেনোর পরে সকালের নাস্তা শেষ করে শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১১ টায় সেখান থেকে রওনা হয় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান (র.)–এর মাজারে। কোনো শিক্ষার্থী পায়ে হেটে প্রায় ৫৪ মিনিট ধরে পুকুরে চারপাশ ঘুরে দেখে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমার সময় খান জাহান আলীর মাজারে ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং লক্ষাধিক লোক তাতে সমবেত হয়। ২০০ বিঘা আয়তনের বিশাল এই দিঘিটি আধ্যাত্মিক সাধক ধর্মপ্রচারক ও সমর নায়ক হযরত খানজাহান আলী খনন করার পর যাতে কেউ দীঘির সুপেয় পানি নষ্ট করতে না পারে সেজন্য দীঘিতে এক জোড়া মিঠা পানির কুমির ছেড়ে দেওয়া হয়।
তপ্ত দুপুর, ঝলসানো রোদে শীতল পরশ খোঁজায় ব্যস্ত ভরাক্রান্ত মন নিয়ে শিক্ষার্থীরা যান প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের ষাট গম্বুজ মসজিদে। লাল পোড়ামাটির উপর লতাপাতার অলংকরণে এর স্থাপত্য মোড়ানো। এর শৈল্পিক সৌন্দর্য মসজিদটিকে বিশেষ স্থান দিয়েছে। মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টি। গম্বুজগুলো ৬০টি স্তম্ভের ওপর অবস্থিত বলে ‘ষাট খাম্বা’ কালে কালে ‘ষাটগম্বুজ’ হয়ে উঠেছে। ছয় শ বছরের পুরোনো ষাটগম্বুজ মসজিদ, ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে।
মাদ্রসার ছাত্র প্রতিনিধি ‘শিক্ষা সফর খাতা-কলমের বাইরে, হাতে-কলমের শিক্ষা।শিক্ষা সফর আমাদের মানুষিক তৃপ্তি দেয়। আজকের দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তেজোদীপ্ত সূর্য যখন তার যৌবনের রূপ হারাতে শুরু করল, তখন সবাই রওনা হন বাগেরহাটের নির্মল বিনোদনের বিশ্বস্ত স্থান চন্দ্রমহল ইকোপার্ক। স্থানটি বাগেরহাট সদর উপজেলার রনজিৎপুর এলাকায় অবস্থিত। শিশুদের বিভিন্ন রাইডস, ওয়াকওয়ে, বিখ্যাত মনিষীদের প্রতিকৃতি, মাছ চাষের লেক, বাঙালি ঐতিহ্যের বিভিন্ন নিদর্শন ও ফল-ফুলসহ গাছ রয়েছে চন্দ্রমহলের চারপাশে। তবে সংস্কারের জন সাময়িক সময়ের জন্য সেগুলো বন্ধ রয়েছে। তাছাড়াও তৈরি হচ্ছে নানান রকেমের
Leave a Reply