“টঙ্গীতে মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা ও কতৃপক্ষের অবহেলায় দুর্ভোগে লাখো মানুষ, অবরোধে স্থবির মহাসড়ক”
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে সেতু নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারের দাবি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একাধিকবার দাবি জানিয়েও সমাধান না পাওয়ায় পুনরায় আন্দোলনে নেমেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গী বাজারের তুরাগ নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রাখা হয়েছে। অথচ বর্তমানে যে অস্থায়ী লোহার সেতুটি চালু আছে, সেটি দিয়ে প্রতিদিন পথচারী ও যানবাহনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। লোহার পাত কাঁপতে থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে, আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত মহাসড়কের চিত্রও শোচনীয়। খানাখন্দ, পানি জমে থাকা কাদা, এবং অসংখ্য বড় বড় গর্তের কারণে এই সড়ক যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে যাত্রীবাহী বাস কিংবা মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে উল্টে যাচ্ছে। এতে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ঝুঁকি নিয়েই রিকশা থেকে শুরু করে সব ধরনের যানবাহন ওই রাস্তায় চলাচল করছে।
এ অবস্থার প্রতিবাদে সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে কয়েক হাজার মানুষ টঙ্গী বাজারের উড়ালসেতুর ওপর ও নিচে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেন। তারা নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণ ও মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এ অবরোধ চলতে থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন কয়েক হাজার পথচারী ও যাত্রী।
মানববন্ধনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের পাশাপাশি টঙ্গীবাজারের ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি হোসেন আলি, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির নজরুল ইসলাম, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান কিরণ।
Leave a Reply