“ভূমিদস্যু ও দখলদারদের এই কারাগারেই রাখা হবে” — কেরানীগঞ্জে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা”
ইমরান আল রাফি ,বিশেষ প্রতিনিধি
শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হাতে; খাল ফিরবে আগের রূপে।
পানিসম্পদ,পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা_সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ—এক সময় নদী ও খালবেষ্টিত জনপদ। শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর মতো বড় নদীর পাশাপাশি ছোট ছোট খালই ছিল এখানকার জীবনের রক্তস্রোত। সেই খালগুলো দিয়ে চলত নৌকা, চলত বাণিজ্য, মেটাত কৃষকের সেচের প্রয়োজন। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খালগুলোর একটি হলো শুভাঢ্যা খাল।
কালের পরিক্রমায় এই খাল আজ দখল-দূষণে ভরাট হয়ে হারিয়েছে তার অস্তিত্ব। একদিকে অবৈধ দখলদার, অন্যদিকে বর্জ্য ফেলে চলমান দখল ও দূষণ—সব মিলিয়ে খালটি এখন স্মৃতির অংশ মাত্র। অথচ একসময় এ খাল দিয়ে যোগাযোগ ছিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন ও উভয় পাড়ের উন্নয়ন ও সুরক্ষা (১ম পর্যায়) প্রকল্পের বাস্তব কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শুভাঢ্যার ঝাউবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অবঃ)জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং পানিসম্পদ,পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা_সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “শুভাঢ্যা এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খালের অবৈধ দখলদার ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেরানীগঞ্জ কারাগার আপনাদের এলাকাতেই আছে—কেউ যদি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা দেয়, তাদেরকে ওই কারাগারেই রাখা হবে।”
এসময় পানিসম্পদ,পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা_সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “ঢাকার সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খালকে পুনঃখননের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছি। এ কাজে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। আশা করছি খুব শিগগিরই খালটি তার স্বাভাবিক ও সুন্দর রূপে ফিরে আসবে।”
এলাকাবাসী মনে করছেন, শুভাঢ্যা খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরবে, তেমনি জলাবদ্ধতার সমস্যা কমবে এবং খালের পাশে গড়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, “আমরা ছোটবেলায় এই খালে নৌকা চালাতাম, মাছ ধরতাম। আজ যদি খালটা আবার আগের মতো হয়, তবে কেরানীগঞ্জের চেহারা পাল্টে যাবে।”
সরকারি পদক্ষেপ ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে যদি প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে শুভাঢ্যা খাল আবারও জীবন্ত হয়ে উঠবে—ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে রাখবে বড় ভূমিকা, আর কেরানীগঞ্জ পাবে একটি সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত নগরীর ভিত্তি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখননের কার্যক্রম শুরু হয়।
Leave a Reply