“মঞ্চ ৭১’–এর গোলটেবিল বৈঠক লতিফ সিদ্দিকীসহ আওয়ামী লীগের ২০ নেতাকর্মী আটক”
ইমরান আল রাফি, বিশেষ প্রতিনিধি
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণ থেকে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ আওয়ামী লীগের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সদ্য গঠিত সংগঠন ‘মঞ্চ ৭১’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। তবে লতিফ সিদ্দিকী ছাড়াও শিক্ষক, সাংবাদিক ও আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সেখানে অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠক চলাকালে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামের আরেকটি ব্যানারের পক্ষ থেকে আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক সেখানে প্রবেশ করে বৈঠকের বিরোধিতা শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন, বৈঠকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনা হচ্ছিল এবং এটি আওয়ামী লীগের একটি গোপন বৈঠক। উত্তেজিতরা অংশগ্রহণকারীদের ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে মিলনায়তন অবরুদ্ধ করে রাখেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন,“আমরা দল-মতের ভেদাভেদ না করে মুক্তিযোদ্ধাদের ডেকেছিলাম। প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল। লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এসেছিলেন, কিন্তু কামাল হোসেন সাহেব আসেননি। এরপর ২০-২৫ জন এসে হৈচৈ শুরু করে আমাদের ঘিরে ফেলে। তবে কারও গায়ে হাত তোলা হয়নি।”
ঘটনাস্থলে ভাঙা একটি টেবিল পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং মিলনায়তনের ভেতরে হৈচৈ চলতে থাকে।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে লতিফ সিদ্দিকীসহ আটক ব্যক্তিদের তিনটি গাড়িতে করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল আসাদ বলেন, “আটকদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সিনিয়র কর্মকর্তারা নেবেন।”
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদও একই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “এখন তাদের থানায় আনা ছাড়া বিকল্প ছিল না। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।”
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠক ঘিরে শুরু থেকেই কৌতূহল ছিল। কারণ সংগঠনটি নতুন হওয়ায় এর কার্যক্রম ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও পরবর্তীতে ভিন্নমতের লোকজনের উপস্থিতি ও প্রতিবাদের ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দিনের শেষে ঘটনাটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্যের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply