“পাটগ্রামে পৌর বিএনপির সভাপতি ওপেলের বড়ভাই জুয়েল স*ন্ত্রা*সী তান্ডব চালিয়ে টাকা-গহনা চুরি, নারী-শিশুকে পি*টি*য়ে আ*হ*ত করে হ*ত্যা*র চেষ্টা করেছে।
নোমান, পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা প্রতিনিধি।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেলের বড় ভাই মোস্তফা কামাল ফারুক (জুয়েল) সহ তাঁর তিন সহযোগীকে জড়িয়ে গুরুতর স*ন্ত্রা*সী তান্ডব কর্মকান্ড পরিচালনা, অর্থকেলেঙ্কারি ও শ্লী*লতা*হানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে (এজাহার) উল্লেখ করা হয়েছে, জুয়েল তাঁর ভাই পৌর বিএনপি’র সভাপতি ওপেলের রাজনৈতিক দাপটকে ব্যবহার করে এলাকায় স*ন্ত্রা*সের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার মির্জারকোর্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এজাহার অনুযায়ী, মোঃ আব্দুর রউফ, তাঁর স্ত্রী দিলরুবা পারভীন রিমি, ছেলে তৌসিফ রাইম এবং মোস্তফা কামাল ফারুক (জুয়েল) একত্রে আসিফ মাহমুদ লিজন নামে এক যুবকের বাসায় হামলা চালান। তারা ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের পরও টাকা ফেরত দিতে না চাইলে একটি চেক জুয়েল জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে তা নষ্ট করে দেয়। এরপর জুয়েলের নেতৃত্বে তারা বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে, পরিবারের নারী সদস্যের উপর শ্লী*লতা*হানি সহ একটি ১৮ মাস বয়সী শিশুকে নির্মমভাবে প্রহার করে এবং প্রায় ৯ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চু*রি করে নিয়ে যায়। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের থানায় একটি এজাহার দাখিল হয়েছে। অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। আমরা বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত শুরু করেছি। সকল প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
এজাহারে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মোস্তফা কামাল ফারুক ওরফে জুয়েল (৫৫) পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেলের বড় ভাই। তিনি তার ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও দাপট ব্যবহার করে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন বলে স্থানীয়দের কাছে কু*খ্যা*ত। অভিযোগ রয়েছে, জুয়েল শুধু এই একটি ঘটনাই নন, পাটগ্রাম পৌরসভা সহ আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স*ন্ত্রা*সী কর্মকান্ড, জোরপূর্বক চাঁ*দা*বা*জি, টেন্ডার দখল, সড়ক ও মার্কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, ডাকাতি, নারী নি*র্যা*তন এবং জবরদখলকৃত জমি বিক্রির মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত। তার ভাই ওপেলের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ও তার সঙ্গীরা যেকোনো রূপের ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অকার্যকর করে তুলেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে মোঃ আসিফ মাহমুদ লিজন জানান, অর্থের জন্য মামলা ও জীবনের হুমকির মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল ও তার ভাই ওপেলের নামে এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এবং তারা দুই ভাই বর্তমানে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভয় ও প্রভাবের কারণে মানুষ পুলিশে অভিযোগ করতে ভয় পায়। তবে, এবার প্রকাশ্যে এতো বড় স*ন্ত্রা*সী হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সকলের দৃষ্টি এখন থানা পুলিশের তদন্ত এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকে।
Leave a Reply