“বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ এখন নিরাপদ, ষড়যন্ত্রকারীরা গণতন্ত্র রুখতে পারবে না :গয়েশ্বর রায়”
ইমরান আল রাফি,জেলা প্রতিনিধি, ঢাকা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আর আতঙ্কে নেই। তিনি দাবি করেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে শান্তি ও নিরাপত্তার অধিকার ভোগ করছে। একই সঙ্গে তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রকারীরাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রুখতে পারবে না।
শুক্রবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর রায় এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলটি ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত।
গয়েশ্বর রায় বলেন, “দুর্গাপূজা কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়। এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। শুভ শক্তির বিনাশ ও সত্য-সুন্দরের আরাধনায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, যেখানে সবাই মিলেমিশে উৎসব পালন করে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজ আর কেউ ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আতঙ্কে নেই। দীর্ঘকাল ধরে এ দেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সহাবস্থান করছে।
এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, দেশে এখনো কিছু সাম্প্রদায়িক ও অশুভ শক্তি সক্রিয় আছে। তারা চায় না মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক বা গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে এলেই এসব শক্তি ষড়যন্ত্রে নামে।
গয়েশ্বর রায় বলেন, “জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই হলো গণতন্ত্র রক্ষার মূল শক্তি। কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বা ষড়যন্ত্রকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে রুখতে পারবে না। তারা যতই চেষ্টা করুক না কেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করতে পারবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের মানুষ এখন গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির মুখোশ চিনে ফেলেছে। যারা নির্বাচন এলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের প্রতি জনগণ আর আস্থা রাখে না।
বিশ্লেষকদের মতে,তিনি একদিকে জনগণকে আশ্বস্ত করছেন যে, ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সবাই নিরাপদে আছে; অন্যদিকে বিরোধী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জনগণকে সতর্ক করছেন, যাতে গণতন্ত্র বিরোধী ষড়যন্ত্র কোনোভাবে সফল না হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, সানাউল্লাহ উদ্দিন বাবু, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন বাবু, জিনজিরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদ শাহিনুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন সাজ্জাদ, তেঘড়িয়া ইউনিয়নের সভাপতি খোরশেদ জামিলুর, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সামিউল্লাহ প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, ভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এক ছাদের নিচে হাজারো মানুষ একত্র হয়ে খাবার গ্রহণ এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে
Leave a Reply