“ক্ষমতায় এলে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সম্মানি দেওয়া হবে: কাজী কায়কোবাদ”
মো:আল-আমিন,মুরাদনগর (কুমিল্লা),
শ্রীকাইলের জনসভায় কায়কোবাদ বললেন, ‘আমি মুরাদনগরের গরীব মানুষের কামলা’
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন,
> “আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, যারা জেল খেটেছেন, মামলা খেয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন — ইনশাআল্লাহ তাদের প্রতিদান দেবো এবং তাদের সম্মানি দেওয়া হবে।”
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
“আমি আপনাদের কামলা, আপনারাই আমার নেতা”
জনসভায় কায়কোবাদ বলেন,
> “আজকের শ্রীকাইলের মানুষের উপস্থিতি দেখে আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেছে। আমি আপনাদের কামলা। মুরাদনগরের গরীব নারী-পুরুষই আমার নেতা। আমি তাদের জন্য কাজ করে গর্ববোধ করি।”
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন,
> “আমাকে পাঁচবার নির্বাচিত করেছেন আপনারা। তৃতীয়বার যখন নির্বাচন হয়, তখন শেখ হাসিনার সরকার ছিল। তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্ত্রাসী এনে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আল্লাহর রহমতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল।”
জামায়াতের সমালোচনা করে কায়কোবাদ বলেন
> “যখন শেখ মুজিব বাকশাল করে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল, তখন তাদের রাজনীতি করার সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। অথচ এখন তারা সেই বিএনপির বিরোধিতা করছে — এটা অকৃতজ্ঞতার শামিল।”
তিনি বলেন,
> “১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে গিয়ে নিজেরাই বিপদে পড়েছিল। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাদের ১৮টি আসন দিয়েছিলেন, এমন সুযোগ তারা আর কখনও পায়নি।”
“বিগত ১৭ বছরে একটি রাস্তাও করেনি সরকার”
সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে সাবেক এই এমপি বলেন,
> “২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে শ্রীকাইলের টর্নেডো দুর্গত পরিবারগুলোকে ঘর থেকে শুরু করে হাঁড়ি-পাতিল পর্যন্ত দিয়েছি। কিন্তু গত ১৭ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা একটি রাস্তাও ঠিক করেনি। সব লুটপাট করেছে চোরের দল।”
“ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কায়কোবাদ বলেন,
> “আগামী নির্বাচনে সকালে সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রমাণ করবেন, ধানের শীষ অতীতের চেয়েও বেশি ভোটে বিজয়ী হয়েছে।”
তিনি আবেগভরে বলেন,
> “আমি বিদেশে থাকতে মায়ের জানাজায় থাকতে পারিনি। কিন্তু লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ আমাকে শান্তি দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ আবারও আপনাদের কামলা হয়ে মাঠে ফিরব।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন
সভায় সভাপতিত্ব করেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন।
সঞ্চালনা করেন শ্রীকাইল ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাজমুল হাসান ও শ্রীকাইল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন—
বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া,
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া,
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার,
সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী,
এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী জুন্নুন বসরী
Leave a Reply