“বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি নেতা আবু জাফর চৌধুরীর আলোচনা ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি :
মাদারীপুর জেলা শিবচর উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ই নভেম্বর (বুধবার) দুপুর ২.০০ ঘটিকার সময় উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরীর বাড়িতে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপজেলার বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা আবু জাফর চৌধুরী বলেন, আমি মাদারীপুর-১ শিবচর আসনের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং শিবচরের জনগন আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে শিবচরের জনসাধারণের শান্তির জন্য যা যা প্রয়োজন সকল কাজ আমি করবো। এ ছাড়া মাদক বর্তমান যুব সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে
আমি আপনাদের এবং প্রশাসন কে সাথে নিয়ে মাদক কে সমাজ থেকে নির্মুল করার জন্য কাজ করবো।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এক বিশাল মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রদক্ষিণ করেন।
জানা যায় দলীয়ভাবে বিএনপি মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর অনিবার্যকারণে তা স্থগিত ঘোষণা করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। এ ঘটনার পর আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরীর নাম। আবু জাফর চৌধুরীকে মাদারীপুর-১ আসনে মনোনয়ন দিলে কোনো বিতর্ক থাকবে না বলে মনে করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে বিএনপির রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু হয় আবু জাফর চৌধুরীর। নব্বইয়ের দশকে আবু জাফর চৌধুরী শিবচর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তার সময়ে শিবচরের প্রতিটি ইউনিয়নসহ গ্রামপর্যায়ে বিএনপি ছিল সুসংগঠিত। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বড় ভাই মরহুম আবুল খায়ের চৌধুরী (রিজু মিয়া) নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। একপর্যায়ে ছোট ভাই জাফর চৌধুরীর হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি এবং পরবর্তীতে শিবচর আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন আবু জাফর চৌধুরী। হারিয়েছেন জায়গা-জমিও। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নানাভাবে কোণঠাসা হলেও বিএনপির রাজনীতিতে অবিচল ছিলেন তিনি। আপস করেননি কারো সঙ্গে। তাকে নিয়ে শিবচরের রাজনীতিতে কোনো বিতর্ক নেই।
স্থানীয়রা আরো বলেন, আবু জাফর চৌধুরীই শিবচর উপজেলা বিএনপিকে দাঁড় করিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে তালমিল করে চলতে দেখলে জাফর চৌধুরী ছিলেন নিজের নীতিতে অটল। আপসহীন একজন নেতা। এই সৎ ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিলে শিবচরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
বিএনপির সমর্থক এইচ এম সাইদুর রহমান বলেন, আবু জাফর চৌধুরী বিএনপির নিবেদিত-প্রাণ রাজনীতিক। আওয়ামী দুঃশাসনের সময় তিনি উপজেলা বিএনপিকে সুসংহত করে রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা। এ আসনে তাকে মনোনয়ন দিলে দলের জন্য মঙ্গল হবে।
জুয়েল মাহমুদ নামে স্থানীয় এক কৃষকদল নেতা বলেন, আবু জাফর চৌধুরী একজন কর্মীবান্ধব নেতা। তিনি যেভাবে কর্মীদের পাশে থাকেন এটা খুবই প্রসংশনীয়। দলের জন্য তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন এটা আমরা জানি।
মনোনয়ন প্রাপ্তির দাবিদার আবু জাফর চৌধুরী বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমি মাঠে ছিলাম। কারো সঙ্গে আপসে যাইনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকেই বিএনপি বনে যাচ্ছে, যাদের ফ্যাসিস্ট আমলে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে যারা প্রকৃত অর্থে বিএনপিকে ভালোবাসে আমি তাদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দলের স্বার্থে সবসময় পাশে রয়েছি। আগামী সংসদ নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে শিবচরে বিএনপির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
Leave a Reply