“গোপালগঞ্জে মনোনয়ন বঞ্চিত ৫ বিএনপি নেতার যৌথ বিক্ষোভ”
মোঃ আবিদ হাসান মুছা, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ দুই আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে পুরো নির্বাচনী এলাকায় যৌথ জনসংযোগ, মোটরশোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ করেছে বঞ্চিত পাঁচ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে শহরের সড়ক ভবনের সামনে থেকে সহস্রাধিক মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও ট্রাকের একটি বহর নিয়ে বিক্ষোভ ও জনসংযোগে বের হয় তারা। বহরটি শহরের প্রেসক্লাব এর সামনের সড়ক দিয়ে ঘোনাপাড়া এবং পুলিশ লাইনস মোড় হয়ে সদর উপজেলাসহ কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ৩ সভাপতি এফ-ই সরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, এম এইচ খান মঞ্জু ও এম সিরাজুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি সরদার নুরুজ্জামান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজের কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেয় এ জনসংযোগে।
পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য রাখেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা। সেখানে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এম এইচ খান মঞ্জু বলেন, “গোপালগঞ্জের সাথে এই ৫ জনের নাড়ির সম্পর্ক। আমরা কিভাবে আপনাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আছি তা নতুন করে বুঝিয়ে বলতে হবে না। একটা ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে আমাদের নেতা দেশে থাকলে এই ভুল সিদ্ধান্ত হতো না। তাই নেতার কাছে এই ম্যাসেজটাই দিতে চাই, আমরা যে ৫ জন মনোনয়নের বাইরে রয়েছি তাদের প্রত্যেকের উপর জেল, জুলুম এবং অত্যাচার হয়েছে। ম্যাসেজটি আমাদের নেতার কানে পৌঁছালে নিশ্চয়ই তিনি মনোনয়নের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন। এই ৫ জনের মধ্যে তিনি যাকেই মনোনয়ন দেবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।”
জেলা বিএনপির অপর সাবেক সভাপতি এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, গোপালগঞ্জে অতীতে যারা রাজপথে ছিল, জনগণের সাথে ছিল, রাজনীতিতে ছিল, গরিব দুখি মানুষের সাথে ছিল সেরকম একজন মানুষকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। দুর্ভাগ্যবসত আমাদের সেই আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নাই। এখানে ৬ জন নমিনেশন চেয়েছে, কিন্তু যাকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছে তিনি ১৭ বছরে কোনোদিনই মাঠে ময়দানে ছিল না। এখানে গোপালগঞ্জের মানুষ এবং যারা বিএনপি করে তাকে বিএনপি হিসেবে কেউ চেনে না। যার বাসা থেকে যৌথবাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে, এরকম একটা মানুষকে গোপালগঞ্জবাসী কোনোভাবেই মেনে নিতে চায় না। এ কারণে আমরা ৫ জন একত্রিত হয়েছি। স্বাধীনতার পরে গোপালগঞ্জে অনেক শ্রম, কষ্ট করে, জীবন দিয়ে বিএনপিকে উজ্জীবিত রেখেছে তাদের মধ্যে যে কাউকে মনোনয়ন দেন আমরা আনন্দের সাথে মেনে নেবো। এবং আগামী নির্বাচনে এই ৫ জনের মধ্যে যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা বিজয়ের মালা ছিনিয়ে আনব। যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাকে জনগণ এবং আমরা পছন্দ করি না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আজকে এটাই আমরা বার্তা দিতে চাই। আমরা বিএনপি করি, বিএনপি নিয়েই থাকব। বিএনপি যাতে গোপালগঞ্জে আরো শক্তিশালী হয় এবং উজ্জীবিত হয় আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ বলেন, “আমাদের দাবী হলো, দল যাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে, অবশ্যই দল পুনর্বিবেচনা করে আমাদের এই ৫ জনের মধ্যে থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে তাতে আমাদের কারো আপত্তি থাকবে না।”
প্রসঙ্গতঃ গোপালগঞ্জ ২ আসনে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ডা: কে এম বাবর আলীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply