“বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরোগ্য কামনায় জাবিতে ছাত্রদলের বিশেষ কর্মসূচি”
মো: শাকিল হোসাইন জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সুবিধাবঞ্চিত, শ্রমজীবী ও রিকশাচালকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার সংলগ্ন মহুয়া চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষকে খাবার প্রদান করেন।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাকিরুল ইসলাম বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। আমরা তাঁর সুস্থতা কামনা করে খেটে খাওয়া কর্মজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাদের কাছে দোয়া চেয়েছি, যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে জাতির সামনে ফিরে আসতে পারেন।”
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহান ভূইয়া, একরামুল হক, মোহাম্মদ হাসান, সাদিয়া ইসলাম খান কুমু, আশরাফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান রাকিব, মোহাম্মদ সোহেল রানা, উজ্জ্বল হাসান রবিন, তানভীর আহমেদ সাগর, আবিদুর রহমান, শাহিদ তালুকদার, রাব্বি সরকার আকাশ, ইমনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
সম্প্রতি দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে। বিএনপি নেতাদের ভাষ্য মতে, তাঁর উন্নত চিকিৎসা ও মুক্তি নিশ্চিত করা এখন জাতীয় মানবিক দায়িত্ব। বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীরা দোয়া, মিলাদ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও তরুণ সংগঠকরা এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজনৈতিকভাবে সচেতন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনের এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি শুধু দলীয় অবস্থানই নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক ধরনের প্রতিফলন। ছাত্র রাজনীতির পরিবর্তিত ধারা, রাজনৈতিক সহানুভূতি এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও এসব উদ্যোগ গুরুত্ব রাখে।
মানবিক সহায়তা ও ক্যাম্পাস রাজনীতির নতুন চরিত্র
শিক্ষার্থীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতিতে মানবিক সহায়তা, সামাজিক উদ্যোগ এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সামাজিক কার্যক্রমকে সামনে রেখে দলীয় অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা চোখে পড়ছে।
একজন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী জানান, “রাজনীতি কেবল ক্ষমতা বা আন্দোলনের বিষয় নয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রও। নেত্রীর সুস্থতা কামনায় আমরা শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নিয়েছি।”
Leave a Reply