“শিবচরে বিএনপির ধানের শীষের বিপরীতে ২ স্বতন্ত্র হেভিওয়েট প্রার্থী, ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াই”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:-
পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীবেষ্টিত দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা অবস্থিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতা ও ত্রিমুখী লড়াই শুরু হয়েছে। দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে নেমেছেন মনোনয়ন বঞ্চিত আরও দুই প্রভাবশালী নেতা। কামাল জামান নুরুদ্দীন মোল্লা ও সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী।
গতকাল ২০শে জানুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন থাকলেও বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত দুই প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহর করেনি। এ দিকে ধানের শীষের প্রার্থীর অভিযোগ দলের নাম ভাঙিয়েই প্রচারণা চালাচ্ছেন ওই দুই নেতা। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া সাধারণ মানুষ চান একটি নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর নির্বাচন। আজ ২১শে জানুয়ারি (বুধবার) সারা দেশের মত মাদারীপুর-১ শিবচর আসনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ করা হয়, তাতে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার পেয়েছেন,ধানের শীষ,স্বতন্ত প্রার্থী কামাল জামান নুরুদ্দীন মোল্লা, জাহাজ,সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী ফুটবল,১০ দলীয় জোটের পক্ষে মাওলানা হানজালা রিক্সা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মাওলানা আকরাম হোসেন হাত পাখা, জাতীয় পাটির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম মিন্টু লাঙ্গল, আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ইন্জিনিয়ার ইমরান হাসান হরিণ প্রতিক,গণ অধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতিক নিয়ে মাদারীপুর-১ শিবচর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।
এ দিকে মনোনয়ন নাটক ও রাজপথের উত্তাপ মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপি শুরুতে কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নামেন মনোনয়ন বঞ্চিত সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ও নাদিরা আক্তারের সমর্থকরা। একপর্যায়ে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
কামাল জামান মোল্লার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা এবং একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিএনপির হাইকমান্ড তার মনোনয়ন স্থগিত করে। পরবর্তীতে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান নাদিরা আক্তার।
বর্তমানে এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নাদিরা আক্তার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে আছেন কামাল জামান মোল্লা এবং দলের আরেক প্রবীণ নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। শিবচরের এই তিন প্রভাবশালী নেতার অনড় অবস্থানে স্থানীয় বিএনপিতে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
নাদিরা আক্তার বলেন, আমার পরিবার শহীদ জিয়ার সময় থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার শ্বশুর শামসুল হুদা চৌধুরী ও চাচা শ্বশুর এই আসন থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করেছেন। আমার স্বামী মরহুম নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরী শিবচর বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি ছিলেন। দলের দুঃসময়ে আমরা হাল ছাড়িনি। দল আমার পারিবারিক ঐতিহ্য ও ত্যাগ বিবেচনা করেই মনোনয়ন দিয়েছে। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান আসুন আমরা বিভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করি।
এদিকে কামাল জামান মোল্লা তার মনোনয়ন স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা। কিছু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে আমার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। আমি তারেক রহমানের ঘোষণায় বিশ্বাসী যে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। আমি জেল-জুলুম সহ্য করে দল গুছিয়েছি। বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত আমাকে মনোনয়ন নাও দেয়, তবুও আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয় হয়ে এই আসনটি জনাব তারেক রহমান কে উপহার দেব।
অপরদিকে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী (স্বতন্ত্র প্রার্থী) তার শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, আমার বয়স এখন ৭০ বছর। জীবনের পুরোটা সময় বিএনপির জন্য বিলিয়ে দিয়েছি। এবারই আমার শেষ নির্বাচন। দল আমার বয়স বা ত্যাগ কোনোটিই বিবেচনায় নেয়নি। শিবচরের আমার একটি বিশাল ভোট ব্যাংক আছে। তাই কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
তিনি আরো বলেন, জীবনের শেষ সময়টুকু আমি জনগণের সেবায় কাটিয়ে দিতে চাই। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিদ্বন্দিতামূলক নির্বাচনের আবহ তৈরি হওয়ায় শিবচরের ভোটারদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তবে বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে, আর শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হয় কি না, তা দেখতেই এখন অপেক্ষায় মাদারীপুর জেলাবাসী।
Leave a Reply