“শিবচরে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারনা, বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ একাধিক প্রার্থীর লড়াই”
সহিদুল ইসলাম,শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:-
বাংলাদেশের দক্ষিণ বঙ্গের গেটওয়ে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা রাজনৈতিকভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন। ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটিতে আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী দুই প্রার্থীসহ বেশ কিছু প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে গ্রাম গন্জে,মাঠে প্রান্তরে বইছে ভোটের হাওয়া। উঠান বৈঠক, পথসভা,হাটে-বাজারে জনসংযোগ ও ঘরে ঘরে ভোট প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। গত ২১শে জানুয়ারি প্রতিক বরাদ্দের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই নির্বাচনী প্রচারনা।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার এর বিপরীত মনোনয়ন বঞ্চিত দুই প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এবং কামাল জামান মোল্লা শিবচর উপজেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনের মাঠে তাদের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য দিকে গত ২১শে জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করে প্রার্থী হওয়ার কারনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তীতে কামাল জামান মোল্লা ও সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এই আসনে মানুষের আলোচনায় রয়েছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী যিনি ফুটবল প্রতিক নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড, গ্রামে গ্রামে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারনায়। লাভলু সিদ্দিকী দীর্ঘ দিন যাবত এলাকায় বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি ভোটের মাঠে তার ফুটবল প্রতিক নিয়ে নামার পর থেকেই তরুন ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। মাদক মুক্ত সমাজ গড়া, নানামুখী উন্নয়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।
সাধারণ জনগন বলেন, তার সরল উপস্থিতি ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাকে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছেন। সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী তার নির্বাচনী সভায় বলেন, আমি আপনাদেরই লোক, আমি আপনাদের সাথে থেকে আপনাদের সেবা করতে চাই। আমার নিজের জন্য চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই।
আমাকে একটা সুযোগ দেন।
অন্যদিকে, জাহাজ প্রতীকের প্রার্থী কামাল জামান নুরউদ্দিন মোল্লাও পিছিয়ে নেই। তিনি নিয়মিতভাবে গ্রামেগঞ্জে পথসভা, মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে সামনে রেখে তিনি ভোটারদের কাছে নিজেকে একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ও মধ্যবয়সী ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
তবে দলীয় প্রার্থীরাও মাঠে সরব। বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা নাদিরা আক্তার এর সাথে থেকে বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিচ্ছেন। নাদিরা আক্তার নির্বাচনী প্রচারনায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফ্যামেলি কার্ড ও কৃষক কার্ড করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। এ ছাড়াও শিবচর কে মাদক মুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত ও চাঁদাবাজ মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের প্রার্থনা করছেন।
এ ছাড়াও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নিয়মিত মাঠে রয়েছেন। ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ আকরাম হোসাইন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মধ্যে প্রচারণা জোরদার করেছেন।
আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইমরান হাসান (হরিণ), বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোঃ হাফিজুর রহমান (আনারস), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল আলী (কাস্তে), গণঅধিকার পরিষদের রাজিব মোল্লা (ট্রাক) এবং বহু নাটকীয়তার পর দশ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে এ আসনে সাইদউদ্দিন আহম্মদ হানজালা কে ঘোষণা করা হয়। এর আগে জামায়েত ইসলামী বাংলাদেশ এর মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সরোয়ার হোসেন মৃধা, তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশ এর মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে ছিলেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দশ দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করলে সরোয়ার হোসেন মৃধা হানজালার সাথে কাজ শুরু করেন। দশ দলীয় প্রার্থীর (রিকশা) প্রতিক নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
প্রার্থীদের প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এলাকার সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরছেন তারা।
ষাটোর্ধ বৃদ্ধ রত্তন হাওলাদার বলেন, গ্রামে গ্রামে ভোট চাইতে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা আসছেন,একটা উতসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে যোগ্য মনে হবে তাকেই ভোট দেবো।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মাদারীপুর-১ শিবচর আসনে বাড়ছে কৌতূহল ও উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থায় কে জায়গা করে নেবেন-সেই অপেক্ষায় এখন শিবচরবাসী।
Leave a Reply